জীবাশ্ম জ্বালানি মুক্ত ভবিষ্যতের দাবিতে তরুণদের সমাবেশ

Passenger Voice    |    ১২:২১ পিএম, ২০২৬-০৫-০৮


জীবাশ্ম জ্বালানি মুক্ত ভবিষ্যতের দাবিতে তরুণদের সমাবেশ

জলবায়ু পরিবর্তনের জরুরি অবস্থা মোকাবিলা এবং জীবাশ্ম জ্বালানি মুক্ত ভবিষ্যতের দাবি জানিয়েছে কয়েক শতাধিক তরুণ জলবায়ু কর্মী। জলবায়ু কর্মীদের ‘তেলে টাকা খাবি কী, যদি না থাকে পৃথিবী’ স্লোগানে মুখরিত ছিল প্রতিবাদ সমাবেশটি।

আজ (শুক্রবার) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক, প্রকৃতি ছাড়া ভবিষ্যৎ নাই’ স্লোগানে একত্রিত হন জলবায়ু কর্মীরা।

জলবায়ু কর্মীরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের জরুরি অবস্থা বিবেচনায় রেখে সর্বস্তরের তরুণরা অবিলম্বে সম্পূর্ণ জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ভবিষ্যতের দাবিতে এই সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। তারা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি পদ্ধতিগত পরিবর্তনের ডাক দেন।

সমাবেশে অংশ নেওয়া জলবায়ু কর্মীদের হাতে বিভিন্ন ফেস্টুন, হাতে লেখা ব্যানার এবং প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। সমাবেশের মূল আকর্ষণ ছিল পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে তৈরি একটি দানবাকৃতির প্রতিকৃতি— যা প্লাস্টিক দূষণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার বন্ধ না করলে আমাদের সামনে যে ভয়াবহ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে, তার প্রতীক হিসেবে প্রদর্শন করা হয়।

একশনএইড বাংলাদেশের আয়োজনে তরুণ জলবায়ু কর্মীদের সাথে সংহতি জানিয়ে ৩০টি যুব সংগঠন এবং ৮টি গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম ইয়ুথ হাবের তরুণ অ্যাক্টিভিস্টরা এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

একশনএইড বাংলাদেশের ইয়ুথ, রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট জাস্টিস টিমের লিড মো. নাজমুল আহসান বলেন, ‘একশনএইড বাংলাদেশ সেইসব তরুণদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে যারা জলবায়ু বিচার এবং একটি ন্যায়সংগত জ্বালানি রূপান্তরের দাবি জানাচ্ছে। জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া একটি মৌলিক মানবাধিকার; তাই জ্বালানি খাতের ন্যায়বিচার এবং পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ করা অপরিহার্য। আমাদের অবশ্যই তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন ও জোরালো করতে হবে, যাতে তারা কেমন ভবিষ্যতে বাস করতে চায় তা নিজেরাই নির্ধারণ ও ব্যক্ত করতে পারে।’

তরুণ জলবায়ু কর্মী ইমরান আহম্মেদ ইমন বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে নারীদের ওপর, তবুও তাদের কণ্ঠই সবচেয়ে কম শোনা হয়। ন্যায়বিচারভিত্তিক জলবায়ু সমাধানে নারীর নেতৃত্ব ও অধিকার নিশ্চিত করা এখন জরুরি। এই গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক সেই সমতার দাবিকে আরও জোরালো করে তুলছে।’

সমাবেশ শেষে মানিক মিয়া এভিনিউতে একটি র‍্যালি করেছে জলবায়ু কর্মীরা।