আড়িয়াল খাঁ নদে সেতুর দাবি,দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

Passenger Voice    |    ০৩:৫৯ পিএম, ২০২৬-০৫-০৭


আড়িয়াল খাঁ নদে সেতুর দাবি,দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

মাদারীপুর শহরের কাছাকাছি লঞ্চঘাট এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদে একটি সেতুর দাবিতে বছরের পর বছর ধরে আন্দোলন করে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধন, স্মারকলিপি ও বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়ানৌকায় নদ পারাপার করতে হচ্ছে তিন ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত আড়িয়াল খাঁ নদ একসময় দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ছিল। এ পথে নিয়মিত মাদারীপুর থেকে ঢাকাগামী লঞ্চ চলাচল করত। যদিও বর্তমানে সেই লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, তবুও এলাকাটি এখনও “লঞ্চঘাট” নামেই পরিচিত।

লঞ্চঘাটের বিপরীত পাশে অবস্থিত মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের মহিষেরচর গ্রাম। কৃষিনির্ভর এ এলাকার অধিকাংশ মানুষ ফসল বিক্রি, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা ও নিত্য প্রয়োজনে প্রতিদিন শহরে যাতায়াত করেন। বিশেষ করে জেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র পুরানবাজারে যেতে এই নদীপথই তাদের প্রধান রাস্তা।

শুধু পাঁচখোলা ইউনিয়ন নয়, উপজেলার কালিকাপুর ও ছিলারচর ইউনিয়নের বাসিন্দারাও দীর্ঘদিন ধরে এই নৌপথ ব্যবহার করে আসছেন। কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে এখনো একটি সেতু নির্মাণ না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে গেলে কয়েক কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হয়, এতে যেমন সময় নষ্ট হয়, তেমনি বাড়ে যাতায়াত ব্যয়।

প্রতিদিন শত শত মানুষ ইঞ্জিনচালিত খেয়ানৌকায় নদ পার হয়ে শহরে আসা-যাওয়া করছেন। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। ছোট ছোট শিশুদের প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে। অনেক সময় নৌকা না পাওয়ায় সময়মতো স্কুলেও পৌঁছাতে পারে না তারা।

স্থানীয়দের দাবি, আড়িয়াল খাঁ নদে একটি সেতু নির্মাণ হলে তিন ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে, বাড়বে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ। পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা ও জরুরি সেবায়ও আসবে গতি। তাই দ্রুত সেতু নির্মাণে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।


ঝুঁকি নিয়ে খেয়া পার হচ্ছে স্কুল ছাত্রীরা

স্কুলের শিক্ষার্থী নার্গিস বলে, আমাদের গ্রাম থেকে প্রতিদিন ট্রলারে চড়ে শহরে যাই, এতে আমাদের ভয় লাগে। কোন সময় ঝড় বা তুফান হয় সে ভয়ে থাকি। নৌপথে চলাচল রিস্কি মনে হয়। সরকার যদি একটি সেতু করে দিত তাহলে আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের অনেক সুবিধা হতো।

শহিদুল ইসলাম নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘আড়িয়াল খাঁ নদের এই পথে সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ যাতায়াত করে। এখানে একটি সেতু নির্মাণ হলে মানুষের জীবনমান, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন হবে। আমরা সরকারের কাছে দ্রুত এখানে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।

আরিফুর রহমান নামে এক প্রবাসী বলেন, গ্রামের বাড়িতে আসা যাওয়া করতে নৌপথে যাতায়াত করা লাগে, তাই শহরে বাসা নিয়েছি। যদি একটি সেতু থাকতো তাহলে আমি আমার বাবা মা ও স্ত্রীকে একসঙ্গে বাড়িতে রাখতে পারতাম। শহরে বাসা নিয়ে থাকাও কষ্ট, অর্থের অপচয়, সরকার আমাদেরকে একটা সেতু করে দিলে অনেক উপকার হতো।

পাঁচখোলা ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. রুবেল হাওলাদার বলেন, ‘আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের। প্রায় এক যুগ ধরে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়ে আসছেন কিন্তু এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।’

মাদারীপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কীর্তনীয়া বলেন, ‘লঞ্চঘাট এলাকায় একটি সেতু নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে এবং কিছু তথ্য ও মৌজার ম্যাপ অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেতু নির্মাণ সম্ভব হবে।’