কাপ্তাই লেক দুষণমুক্ত রাখতে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়া হবে

Passenger Voice    |    ০৫:১৫ পিএম, ২০২৬-০৫-০৬


কাপ্তাই লেক দুষণমুক্ত রাখতে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়া হবে

কাপ্তাই লেক যাতে কোনোভাবেই দুষিত না হয় সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও নাব্যতা ঠিক রাখতে কাপ্তাই লেকে খনন কাজ করা হবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।

বুধবার (৬ মে) দুপুরে রাঙামাটি মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন বিএফডিসি অবতরণ কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

পরে তিনি কাপ্তাই লেকে কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত ও মাছ শিকার বন্ধকালীন তিনমাসে লেক নির্ভরশীল ২৭ হাজার নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে ভিজিএফ চাল বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি)।

প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, মনে রাখতে হবে এটা আমাদের দেশের সম্পদ, এই কাপ্তাই লেক সবার সম্পদ। এটাতে ময়লা আবর্জনা ফেলা হলে একসময় দুষিত হতে হতে এটা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়বে। সে জায়গায় যেন আমাদের যেতে না হয় সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেব। আমরা চেষ্টা করবো সঠিক সময়ে কাপ্তাই হ্রদের নাব্যতা ঠিক রাখার জন্য যেন খনন কাজ শুরু হয়। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে বলা হয় মাছে ভাতে বাঙালি, মাছ আমরা আমাদের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন করতে সক্ষম। তবে প্রয়োজনের চেয়ে যদি বেশি উৎপাদন করতে পারি তাহলে বিদেশেও রপ্তানি করতে পারবো এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করার লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মো. মোবারক হোসেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের নৌপুলিশ সুপার বিএম নুরুজ্জামান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন ও মৎস্য ব্যবসায়ীসহ জেলে সমিতির নেতারা।

অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেরাও উপস্থিত ছিলেন।

সাধারণত প্রজনন মৌসুমের তিন মাস- ১ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে থাকে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। তবে এবার পানিস্বল্পতার কারণে ২৪ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। এতে লেক নির্ভরশীল ২৭ হাজার নিবন্ধিত জেলেকে মাসিক ২০ কেজি হারে বিশেষ ভিজিএফে চাল বিতরণ করা হবে।

গেল অর্থবছরের ৯ মাসে প্রায় দশ হাজার মেট্রিকটন মাছের শুল্কায়ন থেকে রেকর্ড পরিমাণ সরকারি রাজস্ব আয় হয়েছে, যার পরিমাণ ২২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এবার লেকে ৬০ টন কার্পজাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে।