শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:০৮ এএম, ২০২৬-০৫-০৬
ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ নিয়ে সংকট এখনো চলছে। জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়ে চলছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি। এদিকে ৩ সপ্তাহের বেশি সময় বন্ধ দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি সচল করা এবং জ্বালানিসংকট নিরসনে কাঁচামাল (ক্রুড অয়েল) আমদানিতে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে বাংলাদেশ।
কী সেই কৌশল
হরমুজ প্রণালীর জটিলতা এড়িয়ে এমটি নিনেমিয়া নামের জাহাজ এক লাখ টনের বেশি ক্রুড অয়েল নিয়ে বুধবার (৬ মে) চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আসার কথা রয়েছে। এর আগে জাহাজটি সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলে ইয়ানবু বন্দর থেকে গত ২১ এপ্রিল ভোর ৬টায় যাত্রা শুরু করে। বন্দরটি হরমুজ প্রণালীর বাইরে হওয়ায় তেল পরিবহনে সামরিক বা রাজনৈতিক বাধার মুখে পড়েনি।
অন্যদিকে এমটি ফসিল নামের আরেকটি জাহাজ আগামী ১০ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে ১ লাখ টন অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড অয়েল লোড করে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। জাহাজটি এখন আমিরাতের পথে রয়েছে। আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে ক্রুড অয়েল লোড করা হলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজটিকে আসতে হবে না। ফুজাইরা থেকে সরাসরি ভারত মহাসাগর হয়ে বাংলাদেশে আসবে। এ কারণে জাহাজটিকে হরমুজ প্রণালীর জটিলতায় পড়তে হবে না।
দুই জাহাজের আদ্যোপান্ত
চট্টগ্রাম বন্দরের মেরিন ডিপার্টমেন্ট থেকে জানা গেছে, এমটি নিনেমিয়া নামের জাহাজটিতে ১ লাখ ৩৯৫ টন ক্রুড অয়েল রয়েছে। সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর ছেড়ে আসা ২৪৯ দশমিক ৯৫ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৪ দশমিক ১ মিটার ড্রাফটের জাহাজটির আজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছার কথা। অন্যদিকে এমটি ফসিল নামের জাহাজটিতে ১ লাখ টন অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড অয়েল আসছে। পানামার পতাকাবাহী জাহাজটির দৈর্ঘ্য ২৪৯ মিটার ও ড্রাফট ১৪ দশমিক ৯ মিটার।
যেভাবে খালাস হবে
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী চ্যানেলে পলি জমে নাব্যসংকট তীব্র হওয়ায় বন্দরের জেটিতে বড় ও গভীর ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারে না। নিয়মিত ড্রেজিংয়ের অভাবে এবং প্রাকৃতিক কারণে চ্যানেলের গভীরতা কমে যাওয়ায় জোয়ারের সময় সর্বোচ্চ সাড়ে ৯ মিটার গভীরতার জাহাজ প্রবেশ করতে পারে। আর ভাটার সময় ভিড়তে পারে ৬ থেকে ৭ মিটার গভীরতার জাহাজ। যে দুটি জাহাজ আসছে সেগুলো ২৪৯ মিটার দৈর্ঘ্যের এবং ড্রাফট ১৪ মিটারের বেশি। তাই জাহাজগুলো মহেশখালী উপকূলে নোঙর করবে। সেখান থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গায় অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারিতে নিয়ে যাওয়া হবে।
সচল হচ্ছে ইস্টার্ন রিফাইনারি
ইস্টার্ন রিফাইনারির মাধ্যমে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি তেল পরিশোধন করে বাজারজাত করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালী চলাচল সীমিত করে ফেলে। এ কারণে বন্ধ হয়ে যায় ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেল আমদানি। এদিকে আগের মজুত করা তেল দিয়ে প্রায় দেড় মাস চললেও অপরিশোধিত তেলের সংকটে গত ১৩ এপ্রিল দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির মূল দুটি ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তবে ইস্টার্ন রিফাইনারির কাঁচামাল ক্রুড অয়েল আসছে। এখন যত দ্রুত সম্ভব প্রতিষ্ঠানটি চালু করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
যা বলছে বন্দর ও ইস্টার্ন রিফাইনারি
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, এমটি নিনেমিয়া নামের জাহাজটি এখন পর্যন্ত পোর্ট কল (জাহাজের বন্দরে আগমন ও সাময়িক অবস্থান) করেনি। তবে জ্বালানিবাহী জাহাজ ভিড়ার পর আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খালাসের ব্যবস্থা করছি।
ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের সহ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও জনসংযোগ) কাজী আনোয়ারুল হক বলেন, ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৬ মে (আজ) চট্টগ্রামে এসে পৌঁছার কথা রয়েছে। এটা আমরা জেনেছি। জাহাজটি মহেশখালীতে অবস্থান করবে। এরপর দাপ্তরিক সব কার্যক্রম শেষে সেখান থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে ক্রুড অয়েল ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আনা হবে। যত দ্রুত সম্ভব আমরা রিফাইনারি চালু করব। পাশাপাশি আরেকটি জাহাজ ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রামে আসবে।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, ‘কাঁচামাল সংকটের কারণে ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধ রয়েছে। এখন ক্রুড অয়েল আসছে। সরকারের এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি খাতে সরকারকে সুদূরপ্রসারী নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।’
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত