হাওরের পরিস্থিতি দেখতে সুনামগঞ্জে দুই মন্ত্রী

Passenger Voice    |    ০৫:৩২ পিএম, ২০২৬-০৫-০৫


হাওরের পরিস্থিতি দেখতে সুনামগঞ্জে দুই মন্ত্রী

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা নিয়ে কিছু কথা শোনা যাচ্ছে। তালিকা তৈরিতে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা টানা তিনমাস সরকারের সহযোগিতা পাবেন। এ জন্য তাদের কার্ড দেওয়া হবে। পরবর্তীতে তাদের আরও কোন সহায়তার প্রয়োজন হলে তাও করা হবে। হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই গণতান্ত্রিক সরকার সব সময় থাকবে বলে বলেছেন, দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব।

মন্ত্রী আরও বলেন, 'হাওরের ফসল রক্ষায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুুলু। তিনি বলেছেন, ‘হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে এবং হাওর পরিস্থিতি সম্পর্কে করণীয় সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। হাওরে আর এদিক-ওদিক করার প্রকল্প নেওয়া যাবে না। জনগণের টাকা অপচয় করা যাবে না।’

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে সুনামগঞ্জের হাওর পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজনের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, প্রধানমন্ত্রী অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের ( ছাতক ও দোয়ারাবাজার)  সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের ( সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) সংসদ নূরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ-১ আসনের (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, মধনগর) সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব এবি এম আবদুস সাত্তার, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুর রহমান, সঞ্চালনা করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) সমর কুমার পাল। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আকবর আলী ও মো. শেরেনূর আলী ও সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি পঙ্কজ দে।

একই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষি এবং কৃষকের প্রশ্নে সরকার কোনো কম্প্রমাইজ করবে না। এই সরকার মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে কৃষকের অবস্থা শক্তিশালী হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। 

মন্ত্রী নিজেকে কৃষক উল্লেখ করে বলেন, সুনামগঞ্জের হাওরে জলাবদ্ধতা ও পানির সমস্যার সমাধানে করণীয় নির্ধারণে প্রকৌশলীদের কাজে লাগানো হয়েছে। আমাদের মূল কাজ হচ্ছে, আগামিতে যেন হাওরের কৃষক আর এভাবে সংকটে না পড়ে। এই সংকট যেন বারবার না হয়। এ জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।

বিকেলে দুইমন্ত্রী ও অন্যরা জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার করচার হাওরপাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত  ৪০০জন কৃষকের হাতে সরকারি সহায়তা তুলে দেন। প্রত্যেক কৃষককে নগদ সাত হাজার ৫০০ টাকা এবং ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান জানান, টানা তিনমাস ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা সরকারের এই অর্থ এবং চাল সহায়তা পাবেন।