১০ নদীর অববাহিকায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

Passenger Voice    |    ০৪:৪৪ পিএম, ২০২৬-০৫-০৫


১০ নদীর অববাহিকায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

উজানের ঢল আর দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে কুশিয়ারা নদীর পানি কোথাও কোথাও প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

এ ছাড়া মৌলভীবাজার জেলায় জুড়ী নদীর পানি আগামী ৭২ ঘণ্টায় দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা এবং মৌলভীবাজারের জুড়ী, কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ উপজেলার হাওরসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হতে পারে। তা ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লার বেশ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

সোমবার (৪ মে) পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনজুর রহমান খবরের কাগজকে এই আশঙ্কার কথা জানান। 

তিনি জানান, দেশের হাওর অববাহিকায় বৃষ্টিপাত কমে এসেছে। ভারতের মেঘালয়েও বৃষ্টিপাত কমছে। তবে গতকাল ত্রিপুরার আগরতলায় ৮৭ মিলিমিটার, কৈলাশহরে ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সেই পানি নেমে আসছে মনু, কুশিয়ারা হয়ে। কুশিয়ারার পানি ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার খুব কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার সকালে এই পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হবে। অন্যদিকে ত্রিপুরা থেকে পানি জুড়ী, মনু, ধলাই নদী হয়ে নামছে। 

মো. মনজুর রহমান বলেন, ‘সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ, মৌলভীবাজারের জুড়ী, কমলগঞ্জ এলাকার নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হতে পারে।’

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাওর অববাহিকায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ পয়েন্টে কালনী ও কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পয়েন্টে নালজুর নদীর পানি বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সিলেটের গোয়াইনঘাটে সারি-গোয়াইন ও সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে যাদুকাটা নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামীকাল বুধবার ও পরশু বৃহস্পতিবার এই চার নদীর অববাহিকায় ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

মনু, খোয়াই, জুড়ী অববাহিকায় নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। হবিগঞ্জের সুতাং নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ৮৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামীকাল বুধবার ও বৃহস্পতিবার এই চার নদীর অববাহিকায় ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। 

বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার হাওরসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। 

নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ীতে ধনু-বাউলাই বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার, ভোগাই-কংস ৬৭ সেন্টিমিটার, সোমেশ্বরী ৫০ সেন্টিমিটার, মগরা নদী বিপৎসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই নদীগুলোর অববাবিহায় মঙ্গল, বুধবার ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। তাই নেত্রকোনার ধনু-বাউলাই, ভোগাই-কংস অববাহিকায় হাওরসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। 

এদিকে উজানের ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লার বেশ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। 

এ নিয়ে পাউবোর প্রকৌশলী মনজুর রহমান বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মেদির হাওরসহ অন্য যে হাওরগুলো আছে, তার সব কটিই উন্মুক্ত হাওর। এখানে বাঁধ নেই। হাওরের নদীগুলোর পানি বেড়েছে বলে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এটিকে বন্যা পরিস্থিতি বলা যাবে না।’

ভারী বৃষ্টিপাতের সময়সীমা বাড়ছে: ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র 
গতকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী শুক্রবার পর্যন্ত সারা দেশে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময় বজ্রপাতের শঙ্কাও রয়েছে। তবে বৃহস্পতিার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত কিছু কমে আসবে। শনিবার থেকে সারা দেশের তাপমাত্রা বাড়বে। 

গত রবিবার দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে নোয়াখালীর হাতিয়ায়। উপকূলীয় এলাকায় ১২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সিলেট ও নীলফামারীর ডিমলায়। এ দুই এলাকায় ১৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। 

সিলেটে বন্যার ঝুঁকিতে ৩০ লাখ মানুষ: আইএফআরসি 
ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেডক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি) সম্প্রতি বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উজানে ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টির প্রভাবে সুরমা-কুশিয়ারা ও ধনু-বাউলাইসহ প্রধান নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ছে। ইতোমধ্যে সুরমা-কুশিয়ারা নদী ব্যবস্থায় পানি বৃদ্ধির ফলে নিচু এলাকার ফসলহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ইউরোপীয় মধ্যম পরিসরের আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্রের মডেল অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে সিলেটে প্রায় ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। 

প্রতিবেদনে ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাতের শঙ্কার কথা বলা হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, এর সরাসরি প্রভাব পড়বে সিলেট অববাহিকার নদ-নদীতে। তাই মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, জুড়ী, কমলগঞ্জ ও সুতাং এলাকায় আকস্মিক প্লাবনের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট, অমলশিদ ও ফেঞ্চুগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ী ও জারিয়া-ঝাঞ্জাইল এলাকায় ‘বিশেষ সতর্কতা’ জারি করার পরামর্শ দিয়েছে আইএফআরসি। এই বন্যার প্রভাব উত্তর-পূর্বাঞ্চল ছাড়িয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনী পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ ৯টি জেলায় স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন এবং জরুরি ত্রাণসামগ্রী মজুত করা হয়েছে। তাদের জরুরি অপারেশন সেন্টার ২৪ ঘণ্টা খোলা রয়েছে।