ইসলামী ব্যাংকের পিয়ন-দারোয়ানরা এখন কর্মকর্তা

Passenger Voice    |    ১১:০৪ এএম, ২০২৬-০৫-০৪


ইসলামী ব্যাংকের পিয়ন-দারোয়ানরা এখন কর্মকর্তা

চট্টগ্রামে ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে গত এক বছরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, যোগ্য কমকর্তা-কর্মচারীদের অনেককে বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তাদের স্থলে অনেক পিয়ন দারোয়ানকে চাকরিতে পদোন্নতি দেওয়ার প্রমাণও পাওয়া গেছে। প্রশ্নবিদ্ধ প্রক্রিয়ায় নিয়োগে নানা মহলে আলোড়ন উঠেছে। চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ করা কিছু কর্মচারীকেও অ্যাসিসটেন্ট অফিসার এবং জুনিয়র অফিসার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এমন দাবি করেছেন ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত একাধিক কর্মকর্তা। তারা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলের সুপারিশেও এই ব্যাংকে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

খবরের কাগজের হাতে আসা বিভিন্ন প্রমাণাদিতে দেখা যায়, ইসলামী ব্যাংকে পিয়ন, দারোয়ানকে কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এমনকি বিভিন্ন শাখায় স্থানীয়ভাবে চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ করা কর্মচারীকেও কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। স্মল বিজনেস ইনভেস্টমেন্ট স্কিম (এসবিআইএস) এর আওতায় কাজ করেছেন তারা। ব্যাংকের অর্গানোগ্রামে তাদের পদ নেই– এমন কিছু কর্মচারীকেও কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই ডিপার্টমেন্ট থেকে অ্যাসিসট্যান্ট অফিসার এবং জুনিয়র অফিসার করা হয়েছে।

তড়িঘড়ি নিয়োগ
ইসলামী ব্যাংকে ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে চট্টগ্রামের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেছে বেছে বাদ দেওয়া শুরু হয়। তারপর ১৫ অক্টোবরের দিকে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এ সময় নতুন করে যারা নিয়োগ পেয়েছেন তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে রয়েছে রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশ। সিকিউরিটি গার্ড, ক্লিনার, পিয়ন, প্লাম্বার, ইলেকট্রিশিয়ানদের অনেককেই এ যাত্রায় পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। যথাযথ শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তাদের তিন থেকে চার পদ ওপরে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তারা এখনো স্বপদে বহাল রয়েছেন। নিয়োগপ্রাপ্তির এক বছরের মধ্যেই তারা আরও পদোন্নতির জন্য অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছেন, নতুন করে পদোন্নতির জন্য আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্টার্ক ব্যাংকারস ফোরামের আহ্বায়ক বিএম আনোয়ার। সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর তার বিরুদ্ধে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ জমা পড়েছে। এই ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। 

জানতে চাইলে রাজধানী ঢাকার গেন্ডারিয়া শাখায় কর্মরত নতুন পদোন্নতি পাওয়া জুনিয়র অফিসার রশিদুল ইসলাম খ বলেন, তিনি পিয়ন কাম গার্ড হিসেবে যোগদান করেন। তবে তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ হয়েছেন। পদোন্নতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাকরিতে যোগদানের সময় তারা জানতেন যোগ্যতা থাকলে পদোন্নতি পাবেন। তাই সবচেয়ে নিচের পদে যোগদান করেছেন। রাশিদুল ইসলাম বলেন, তার মতো আরও শত শত কর্মচারীকে এভাবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। মোস্তাফিজুর রহমান নামে আরেক জুনিয়র অফিসার জানান, তিনিও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি ২০০৬ সালে ইসলামী ব্যাংকে পিওন পদে যোগদান করেন। দারোয়ান পদেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রায় ২০ বছর পর এবার জুনিয়র অফিসার পদে পদোন্নতি পান। পদোন্নতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

এদিকে, ইসলামী ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, পিয়ন-দারোয়ান থেকে পদোন্নতি পাওয়ার নিয়ম ২০১৭ সালের পর থেকে বন্ধ হয়ে যায়।

নতুনদের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি 
নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সিলেবাস থেকে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া এখানে কোনো নেগেটিভ মার্কিং ছিল না। এ ছাড়া নতুন নিয়োগকৃতদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে ইসলামী ব্যাংক ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ একাডেমির (আইবিটিআরএ) মাধ্যমে, যা ইসলামী ব্যাংকের নিজস্ব জনবলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এ সময় প্রায় ৩ হাজার লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার বেশির ভাগ একটি রাজনৈতিক দলের সুপারিশক্রমে হয়েছে। 

নিয়োগে অনিয়ম এবং পিয়ন দারোয়ানকে কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংকের ওই সময়ের হিউম্যান রিসোর্স উইংয়ের প্রধান (অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক) মো. কামাল উদ্দিন জসিম বলেন, তিনি বর্তমানে ওই পদে নেই। ব্যস্ততার কারণে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। 

সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হিউম্যান রিসোর্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিভিশনের প্রধান এ কে এম কাউসার আলমের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেননি। 

ইসলামী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হিউম্যান রিসোর্স উইংয়ের বর্তমান প্রধান মাহাবুব আলমকে ফোন করা হলে ব্যস্ততার কারণে তিনি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

চাকরিচ্যুতদের যোগ্যতা
গত বছর ইসলামী ব্যাংক থেকে যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয় ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে। তাদের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য সে সময় দায়িত্ব দেওয়া হয় (পরীক্ষা গ্রহণ) আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএকে। তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নেগেটিভ মার্কিং ছিল ৫০ শতাংশ। পাশাপাশি তাদের অধিকাংশেরই ব্যাংকিং ডিপ্লোমার চারটি পার্ট শেষ করা ছিল (বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক)। বেশির ভাগ কর্মকর্তা বাংলাদেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণিসহ অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করা। 

চাকরিচ্যুতির কারণ
অভিযোগ রয়েছে চাকরিচ্যুত ব্যাংকাররা নির্দিষ্ট একটি দলের মতাদর্শের না হওয়ায় বহু আগ থেকে তাদের বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তথাকথিত যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষার নাম দিয়ে কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুতি করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে ইসলামী ব্যাংকের ওই কর্মকর্তাদের চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘চট্টগ্রাম ট্যাগ’ দিয়ে কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই শ্রম আইন লঙ্ঘন করে এবং চাকরি বিধিমালা অনুসরণ না করেই চাকরিতে থাকা অবস্থায় বহু কর্মকর্তার অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে বেতন আটকে দেওয়া হয়। তাদের চাকরিকালীন অন্য জমা ও ভাতাও দেওয়া হয়নি। অনেক কর্মকর্তা শেষ মাসের বেতন এখনো তুলতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন। 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুরাতন কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত করার আগে একটি পরীক্ষার আয়োজন করে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষা নেওয়ার অল্প সময় আগে ২২ সেপ্টেম্বর সার্কুলার দেওয়া হয়। পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয় ২৭ সেপ্টেম্বর। পরীক্ষার সার্কুলারে লেখা ছিল ‘যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা’। তবে পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্রে এবং বাইরের নোটিশ বোর্ডে লেখা হয় ‘নিয়োগ পরীক্ষা’ লেখা। অথচ উচ্চ আদালতের রিটে নির্দেশ দেওয়া ছিল ‘যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা’র পরিবর্তে পদোন্নতির জন্য ‘পদোন্নতি পরীক্ষা’ নেওয়া হোক। কিন্তু পরীক্ষার দিন এসব জালিয়াতি ধরা পড়ায় প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মকর্তা পরীক্ষা বর্জন করে কেন্দ্র ত্যাগ করেন। তার পরই তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর থেকেই তারা চাকরি ফিরে পাওয়ার জন্য ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন, যা এখনো চলমান রয়েছে।  

বায়তুল মাল ও নির্বাচনি তহবিল
চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের অভিযোগ, চাকরিচ্যুত করার আগে তাদের কাছ থেকে বায়তুল মাল নামক রাজনৈতিক তহবিলে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হতো। এই তহবিলে ব্যাংকারদের মাসিক বেতনের ৫ শতাংশ ওই তহবিলে জমা দিতে বাধ্য করা হতো। অধিকাংশ কর্মকর্তা বায়তুল মালে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় সেই রাজনৈতিক তহবিলের কর্ণধাররা ক্ষিপ্ত হন। তাদের চোখে এটা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

ইসলামী ব্যাংকে কর্মরতদের কাছ থেকে ৫ আগস্টের পর বায়তুল মাল আদায় করা শুরু হয়। ইসলামী ব্যাংক হেড অফিসের সিনিয়র অফিসার হাফিজুর রহমান বায়তুল মালের টাকা তুলতেন। তবে কোনো রশিদ বা অন্য কোনো ডকুমেন্ট তিনি দিতেন না।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই ঘটনার সঙ্গে তার জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। এদিকে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে দল সমর্থিত প্যানেলে আর্থিক সহযোগিতার জন্যও ব্যাংকারদের কাছ থেকে পদবি অনুযায়ী চাঁদা তোলা হয় বলে তারা অভিযোগে জানান অনেকেই। 

দেওয়া হচ্ছে হুমকি-ধমকি
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার আবুল আজাদ, প্রিন্সিপাল অফিসার খান জাহান এবং কর্মকর্তা আলী হোসেন আন্দোলনকারীদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া ও ফোনকলের মাধ্যমে তারা প্রতিনিয়ত আন্দোলনকারীদের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলোয়ারও আন্দোলনকারীদের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে।

চাকরিচ্যুতদের মানবেতর জীবন
চাকরি হারিয়ে গত ৭ থেকে ৮ মাস ধরে অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। চিকিৎসা করাতে না পারায় একজন ব্যাংকারের বাবা মারা গেছেন। চাকরিচ্যুতির খবরে এক নারী কর্মকর্তার স্বামীও হঠাৎ মারা গেছেন। ওই শোকাহত পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আর্থিক সহায়তা পাঠিয়েছেন।

এ ছাড়াও আন্দোলনে থাকা আবদুল আজিজ নামের একজন ব্যাংকারকে গত ২২ জানুয়ারি কুমিল্লায় ট্রেন থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের একটি আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসছিলেন। 

জাতীয় সংসদে আলোচনা
জাতীয় সংসদে গত ২১ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করে একটি সুরাহা করার আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তাদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিয়েছেন চট্টগ্রামের চারজন সংসদ সদস্য। 

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাসিন্দা ভুক্তভোগী ব্যাংকার কায়সার পারভেজ বলেন, ‘যারা চাকরিচ্যুত করেছেন তারা বহাল তবিয়তে আছেন, আর ভুক্তভোগী হয়েছি আমরা। আমাদের এখন নতুন করে চাকরির আবেদন বা নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বয়স নেই। আবার সামাজিক মর্যাদা বা অবস্থান বিবেচনায় অন্য কোনো পেশায় যাওয়ার সুযোগ নেই। প্রায় ৮ বছরের চাকরিজীবনে কখনো অন্যায় করিনি। বাকি সময়টুকুও সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যেতে চেয়েছি। কিন্তু এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে কখনো ভাবিনি।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘চাকরিচ্যুতদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অথচ আমি প্রতিবছরই ভালো এসিআরসহ তিনটি পদোন্নতি পেয়েছি। কিন্তু তার পরও কেন যোগ্যতা নিয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে।’

চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের প্ল্যাটফর্ম চিটাগং অ্যালায়েন্সের মুখপাত্র এবং সমন্বয়ক মোহাম্মদ মোক্তার রশিদ বলেন, ‘চাকরিচ্যুত হওয়ার পর সামাজিক, পারিবারিক ও আর্থিকভাবে আমরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। বিগত সাত মাস ধরে আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। পাশাপাশি সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছি। আমরা তো তদবির নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এই চাকরি পেয়েছি। সুতরাং আমরা কেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছি। আমরা এবং আমাদের পরিবার ও সন্তানরা কেন এর ভুক্তভোগী হবে। সরকারের কাছে আমাদের আকুল আবেদন, যত দ্রুত সম্ভব চাকরিচ্যুত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিতে পুনর্বহালের ঘোষণা দেওয়া হোক।’ সৌজন্যে খবরের কাগজ