শিরোনাম
Passenger Voice | ১২:০১ পিএম, ২০২৬-০৫-০৩
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ড্রেজার ও সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগে সাবেক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক এমপি জিল্লুর রহমান, বিআইডব্লিউটিএর সাবেক চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক, বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) আব্দুল মতিন, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম তালুকদার, সাঈদুর রহমান এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স, এনডিএ ও এমএম বিল্ডার্সের মালিকদের পরস্পর যোগসাজশে ব্যক্তিস্বার্থে লাভবান হওয়া, নিয়োগ বাণিজ্য, কার্গো ভ্যাসেল লাইসেন্স ও ফিটনেস ইস্যুতে ঘুষ লেনদেনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকল্পটির মেয়াদ দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়। সেই সঙ্গে বাড়ানো হয় ব্যয়। পাশাপাশি প্রকল্প কাটছাঁট করে ছোট করা হয়। নানাভাবে দুর্নীতির অভিযোগের চলমান অনুসন্ধান বিষয়ে দুদকের সহকারী পরিচালক রাকিবুল হায়াত খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রকল্পটি সংশোধন করে নতুনভাবে কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পের কাজও চলমান আছে। প্রকল্পের দুর্নীতির সামগ্রিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে অনুসন্ধান কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ কমিশনে প্রতিবেদন পেশ করা হবে। দুদকে এখন কমিশন নেই। কমিশন পুনর্গঠন হলে নতুন কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।’
বিআইডব্লিউটিএর ৩৫টি ড্রেজার, ১৬১টি সহায়ক জলযান সংগ্রহ, ৩টি ড্রেজার বেজ ও একটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার জন্য ৪ হাজার ৪৮৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছিল ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। পরে এর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্প ব্যয় ২৬ লাখ ১৬ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৫১৫ কোটি ৫২ হাজার নির্ধারণ করা হয়। এই মেয়াদেও প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় আগামী ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত ফের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। দুই দফা মেয়াদ বাড়িয়ে দীর্ঘ আট বছরে প্রকল্পটির অর্ধেক কাজও বাস্তবায়ন হয়নি।
জানা গেছে, এ প্রকল্পের ৬১টি ক্রয়-প্যাকেজের মধ্যে ২৭টির কার্যক্রম শেষ হয়েছে। বাকি ৩৪টির কাজ আটকে আছে। সংশোধিত ডিপিপিতে মোট ৬১টি প্যাকেজের মধ্যে প্যাকেজ-৭, প্যাকেজ-৮, প্যাকেজ-১০ ও প্যাকেজ-১২-এর প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে চুক্তিমূল্য অনেক বেশি ধরা হয়েছে।
এ ধরনের নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে আলোচিত হন বিগত আওয়ামী লীগ আমলে বিআইডব্লিউটিএর তৎকালীন চেয়ারম্যান গোলাম সাদেক। অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় আস্থাভাজন হওয়ায় গোলাম সাদেক তার পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স, এনডিএ, এমএম বিল্ডার্সকেই ঘুরে ফিরে বড় বড় প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দিতেন।
এ বিষয়ে ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আলী আজগর ফকিরের অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক ওই প্রকল্পের দুর্নীতির বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সে সময় সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তলব করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোলাম সাদেককেও দুদকে তলব করা হয়। দুদকের তলবে সাড়া দিয়ে তিনি ২০২৫ সালের ৫ মার্চ রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হন গোলাম সাদেক। তাকে প্রায় দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের কর্মকর্তারা। সৌজন্যে খবরের কাগজ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত