শিরোনাম
Passenger Voice | ১২:০৮ পিএম, ২০২৬-০৪-৩০
লাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) পাওনা ১০১ কোটি টাকা পরিশোধ করছে না বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)। এমনকি যৌথ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাওনা পরিশোধের আশ্বাস থাকলেও পরিশোধ করা হয়নি।
বিএসসির কাছে বন্দর কর্তৃপক্ষের পাওনার মধ্যে জাহাজ মাশুলবাবদ (পোর্ট চার্জেস) ৭৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, জায়গার ভাড়াবাবদ ১৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ও রাজস্ব বোর্ডের ভ্যাটবাবদ ১২ কোটি ১৫ লাখ টাকা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে গত সপ্তাহে পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে। এর আগে একাধিকবার বিএসসিকে চিঠি ও তাগিদ দিলেও যথাযথ জবাব মিলেনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি চবক ও বিএসসির মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিএসসি এক সপ্তাহের মধ্যে ৪৩ কোটি টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল। বাকি টাকার বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে রিভিউ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যবিবরণী ১ ফেব্রুয়ারি বিএসসিকে পাঠানো হয় ও পরবর্তী সময়ে ৭ এপ্রিল পুনরায় তাগাদা দিয়ে চিঠি দেওয়া হলেও তারা কোনো টাকা পরিশোধ করেনি।
তিনি বলেন, পাওনা টাকার মধ্যে ভ্যাটবাবদ রাজস্বের টাকাও রয়েছে। যা আদায় না করার কারণে এনবিআরকে পরিশোধ করতে পারছি না। প্রতিষ্ঠানটি আবার আমাদের তাগিত দিচ্ছে। বিষয়টি আমাদের জন্য হতাশাজনক।
চিঠি ও বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার কারণে জাহাজ ভাড়া হ্রাস পাওয়ায় বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে তাদের সব ধরনের পোর্ট চার্জেস স্থগিত রাখে এবং পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক অবস্থা রিভিউপূর্বক চট্টগ্রাম বন্দরের বকেয়া পরিশোধের জন্য নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় হতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। দীর্ঘ ১২ বছর আগের বিশ্বমন্দার অজুহাত দেখিয়ে এবং দফায় দফায় প্রতিশ্রুতি দিয়েও বকেয়া ও ভ্যাট পরিশোধে বিরত থেকেছে বিএসসি। অথচ বিএসসির কাছে বন্দর কর্তৃপক্ষের মোট পাওনার পরিমাণ ১০০ কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে জাহাজ মাশুল (পোর্ট চার্জেস) ৭৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, জায়গার ভাড়াবাবদ ১৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ও রাজস্ব বোর্ডের ভ্যাটবাবদ ১২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। সেই মন্দাকাল অতিক্রান্ত হয়ে বর্তমানে বিএসসি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার পরও চবক এর পাওনা পরিশোধে বিরত রয়েছে।
নথি অনুযায়ী, ‘এমটি বাংলার জ্যোতি’ এবং ‘এমটি বাংলার সৌরভ’ জাহাজ দুটি স্ক্র্যাপ করার অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নেওয়ার সময় বিএসসি একটি অঙ্গীকারনামা দিয়েছিল। সেখানে তারা ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা তাৎক্ষণিক পরিশোধ করে এবং বাকি টাকা প্রতি মাসে ১ কোটি টাকা করে কিস্তিতে দেওয়ার অঙ্গীকার করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো কিস্তি পরিশোধ করেনি সংস্থাটি।
বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র বলছে, বিএসসি কেবল জায়গার ভাড়াই বকেয়া রাখেনি, তারা যে জায়গা ব্যবহার করছে তার জন্য প্রতি বছর চবক’কে নিয়মিত পৌরকর (মিউনিসিপ্যাল ট্যাক্স) পরিশোধ করতে হচ্ছে। একদিকে বিএসসি ভাড়া দিচ্ছে না, অন্যদিকে তাদের হয়ে চবককে কর দিতে হচ্ছে। ফলে বন্দর কর্তৃপক্ষ আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এই বকেয়া আদায়ে এখন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শিপিং কর্পোরেশনের মহাপরিচালক (অর্থ) মো. আজমগীরের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শিপিং কর্পোরেশনের তথ্যানুযায়ী গত বছর প্রতিষ্ঠানটি তার ৫৪ বছরের যাত্রাপথে ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ রাজস্ব ও মুনাফা অর্জন করে। প্রতিষ্ঠানটি ৮০০ কোটি টাকা রাজস্ব এবং ৩০৬.৫৬ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করে এবং শেয়ারহোল্ডারদের ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত