শিরোনাম
Passenger Voice | ০৪:৩১ পিএম, ২০২৬-০৪-২৯
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) ২০২১ সালের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর বাংলাদেশে রোডক্র্যাশে ৩১ হাজার ৫৭৮ জন নিহত হয়। দেশে প্রতি এক হাজার কিলোমিটার সড়কে প্রায় ৬৭ জনের মৃত্যু ঘটে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের সভাকক্ষে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের আয়োজনে ‘সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় ‘গতি নিয়ন্ত্রণে গতিসীমা নির্দেশিকা ম্যানুয়াল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন’ শিরোনামের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় এ তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির রোড সেফটি প্রকল্প সমন্বয়কারী শারমিন রহমান।
শারমিন রহমান বলেন, বিশ্বব্যাপী রোডক্র্যাশে মৃত্যুর প্রায় ৫৪ শতাংশের জন্য অতিরিক্ত গতি দায়ী। বাংলাদেশে অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া যান চালানো দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ।
১৯৯৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পুলিশের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৮২ শতাংশ রোডক্র্যাশ অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া চালানোর কারণে ঘটে। রোডক্র্যাশে নিহতদের ৫০ শতাংশের বেশি হচ্ছেন পথচারী, সাইকেল আরোহী এবং মোটরসাইকেল চালক, যারা উচ্চগতির দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
সভায় দৈনিক মানবজমিনের সিনিয়র রিপোর্টার শুভ্র দেবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- দৈনিক ভোরের আওয়াজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার জামিউল আহছান শিপু, দৈনিক যুগান্তরের ক্রাইম ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম, দৈনিক যায় যায় দিনের সিনিয়র রিপোর্টার আব্দুল গফ্ফার, ঢাকা পোস্টের চিফ অব ক্রাইম এন্ড আরবান অ্যাফেয়ার্স জসীম উদ্দীন ও দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের বিশেষ প্রতিনিধি মো. তোফাজ্জল হোসাইন কামাল। তাদের উপস্থিতির জন্য ধন্যবাদ জানান ঢাকা আহছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের উপ-পরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান।
রোডক্র্যাশের বিশ্ব পরিস্থিতি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) গ্লোবাল স্ট্যাটাস রিপোর্ট অন রোড সেফটি-২০২১ অনুযায়ী, ২০২১ সালে বিশ্বে রোডক্র্যাশে প্রায় ১১ লাখ ৯০ হাজার (১.১৯ মিলিয়ন) মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে ৯২ শতাংশ মৃত্যু ঘটেছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। এছাড়া মোট মৃত্যুর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ঘটেছে ১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষের মধ্যে। রোডক্র্যাশ সব বয়সী মানুষের মৃত্যুর ক্ষেত্রে ১২তম প্রধান কারণ। ৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী শিশু ও তরুণদের মৃত্যুর প্রধান কারণ এখন রোডক্র্যাশ।
রোডক্র্যাশ ও প্রাণহানি কমাতে বক্তারা কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন–
১. যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর গাইডলাইন বা ম্যানুয়াল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
২. আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. যানবাহনে বাধ্যতামূলকভাবে ‘স্পিড গভর্নর সিল’ স্থাপন করতে হবে, যাতে চালক অতিরিক্ত গতিতে যান চালাতে না পারেন।
৪. নিরাপদ সড়ক ও যানবাহন নিশ্চিত করতে সড়ক নিরাপত্তা আইন দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত