শিরোনাম
Passenger Voice | ১০:২৬ এএম, ২০২৬-০৪-২৮
একীভূতকরণ থেকে বেরিয়ে যেতে চায় সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান ও উদ্যোক্তা শেয়ারধারী মেজর ডা. মো. রেজাউল হকের (অব.) নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে সোমবার (২৭ এপ্রিল) একটি আবেদন দাখিল করেছেন। এই আবেদনটি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে জমা দেওয়া হয়, যেখানে বর্তমান ‘রেজুলেশন স্কিম’ পর্যালোচনা ও পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনকারীরা মনে করেন, সঠিক নীতিগত ও ব্যবস্থাপনাগত পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যাংকটিকে আবারও স্থিতিশীল ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব।
ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬-এর আওতায় আবেদনকারীরা ব্যাংকটিকে পুনরায় স্বাধীনভাবে পরিচালনার সুযোগ চান। একীভূতকরণ প্রক্রিয়া স্থগিত করে প্রকৃত মালিক ও যোগ্য পরিচালকদের মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করে বর্তমান সংকট কাটানো সম্ভব বলেও তারা মনে করেন।
চিঠিতে তারা উল্লেখ করেন, এসআইবিএলকে অন্যান্য ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্তে ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এতে স্পন্সর ও সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার পাশাপাশি পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমেছে।
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক পরিচালনা পর্ষদের আবেদনে ব্যাংকটিকে পুনরুদ্ধারের একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন তারা। এতে ব্যবসার সম্প্রসারণ, সম্পদ পুনরুদ্ধার, গ্রাহক আস্থা পুনর্গঠন এবং নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে একটি টেকসই ব্যাংকিং কাঠামো গড়ে তোলার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি উত্তরণে কৌশলগত রোডম্যাপ দিয়েছেন তারা। এর অংশ হিসেবে গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রবেশ ও আমানত বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বৃদ্ধি, রপ্তানি ও আমদানি বাণিজ্যে পুরোনো গ্রাহকদের পুনরায় সম্পৃক্ত করা, সাধারণ মানুষের জন্য ঋণ সুবিধা, নগদ প্রবাহ ও আমানত বাড়ানো, আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে ঋণ আদায় জোরদার করে খেলাপি ঋণ ২০২৬ সালের মধ্যে ২৫ শতাংশ কমিয়ে আনা, ৩০ শতাংশ খারাপ ঋণ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিতে স্থানান্তরের প্রস্তাব, সম্পদ পুনরুদ্ধারে গুরুত্ব বাড়ানো, মানসম্পন্ন সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে তারল্য বাড়ানো, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত সহায়তা এবং বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
শুধু তাই নয়, আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে ছোট আমানতকারীদের অর্থ ফেরতে অগ্রাধিকার, বড় আমানতকারীদের জন্য নির্দিষ্ট পেমেন্ট শিডিউল, আকর্ষণীয় নতুন সঞ্চয় স্কিম চালু, গ্রাহক সমাবেশ ও সরাসরি যোগাযোগ, ব্র্যান্ড ইমেজ পুনর্গঠনেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এসব কৌশলগত রোডম্যাপ বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তারা ১১ হাজার কোটি টাকা ঋণ সহায়তা চান। এই ঋণ পরিশোধে ৮ বছর সময় (২ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ) চান তারা। এ ছাড়া বর্তমান রেজুলেশন স্কিম স্থগিত করে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের অনুমোদন, নীতিগত সহায়তা ও গ্রাহকের আমানত সুরক্ষায় প্রশাসক-নির্ভর ব্যবস্থার পরিবর্তে বোর্ড-চালিত সুশাসন চান তারা।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত