শিরোনাম
Passenger Voice | ১০:৩২ এএম, ২০২৬-০৪-২৭
খুলনা নগরীর গোবরচাকা বাগানবাড়ি, শেখপাড়া বাজার, বসুপাড়া হাজি ইসমাইল রোড ও পৈপাড়া এলাকা। সাবেক এক কাউন্সিলর ও রাজনৈতিক নেতার ছত্রচ্ছায়ায় আধা কিলোমিটারের মধ্যে এখানে চারটি ইজিবাইকের চার্জিং পয়েন্ট গড়ে তোলা হয়েছে।
চারপাশে ইটের দেয়াল কিংবা বাঁশের বেড়া। মাথার ওপরে টিনের ছাউনি। প্রতিটি চার্জিং পয়েন্টে দিনে-রাতে গড়ে ৫০-৭০টি ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা চার্জ দেওয়া হয়।
শুধু খুলনার এই এলাকা নয়, নগরীর সোনাডাঙ্গা আলীর ক্লাব, মহিবাড়ি খালপাড়, সোনাডাঙ্গা বাইপাস রোড, ল্যায়ন্স স্কুলের কাছের শেরেবাংলা রোড, হরিণটানা, কৃষ্ণনগর, খালিশপুর ও দৌলতপুর এলাকায় অলিগলিতে ইজিবাইকের তিন শতাধিক চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ চার্জিং পয়েন্টে অবৈধ বিদ্যুৎ-সংযোগ থেকে ইজিবাইক ও রিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হচ্ছে। চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবার একটি ইজিবাইকে চার্জ দিতে গড়ে ৬ থেকে ১০ ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। সে হিসাবে খুলনা নগরীতে চলাচলরত ৩০ হাজার ইজিবাইকের চার্জ দিতে লাগে কমপক্ষে ১ লাখ ৮০ হাজার ইউনিট বা ১৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ; যা খুলনায় ঘাটতি থাকা বিদ্যুতের অর্ধেকেরও বেশি।
জানা যায়, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) আওতায় খুলনা জেলায় পিক ও অফপিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৬৫০-৭৮০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় ৪৬০-৫৫০ মেগাওয়াট। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুতে ঘাটতি থাকে ১৯০-২৩০ মেগাওয়াট।
ইজিবাইকচালক মো. হানিফ জানান, একটি ইজিবাইকের জন্য চার থেকে পাঁচটি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি প্রয়োজন। প্রতি সেট ব্যাটারি চার্জের জন্য গড়ে ৯০০ থেকে ১১০০ ওয়াট হিসেবে ৬ থেকে ৮ ইউনিট (দিনে বা রাতে কমপক্ষে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা) বিদ্যুৎ খরচ হয়। সেই হিসাবে জেলার প্রায় ৩০ হাজার ইজিবাইক বা ব্যাটারিচালিত রিকশা চার্জের জন্য জাতীয় গ্রিড থেকে প্রতিদিন অন্তত ১৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, খুলনায় ৭২টি ইজিবাইকের চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে। তাদের জন্য দৈনিক ৮৯১ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ থাকে।
তবে একাধিক স্থানীয় সূত্র জানায়, ইজিবাইকের চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা কয়েক শটি। প্রতিটি চার্জিং পয়েন্টে ৩০-৫০টি ইজিবাইক চার্জ দেওয়া হয়। কোনো কোনো স্থানে এই সংখ্যা আরও বেশি। ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতির অন্যতম কারণ হিসেবে দাঁড়াচ্ছে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা।
পৈপাড়া ইজিবাইক চার্জিং পয়েন্টের পরিচালনাকারী পিন্টু মিয়া জানান, একটি ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জে দৈনিক ১০-১২ ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি গাড়ির জন্য আলাদা সাবমিটার আছে। প্রতি ইউনিট ব্যবহারে চালকদের কাছ ১৫ টাকা করে বিল ও জায়গা ভাড়া হিসেবে আরও ৪০ টাকা নেওয়া হয়।’
জানা যায়, সাধারণত রাতে এসব ইজিবাইক ও রিকশাভ্যান চার্জ দেওয়ার কারণে বিদ্যুৎ গ্রিডে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা নিয়মিত লোডশেডিংয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ ছাড়া অনেক গ্যারেজে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে অবৈধ সংযোগ বা মিটার টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে চুরি করে ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হচ্ছে। মিটার থেকে বিদ্যুতের পোল পর্যন্ত সংযোগ তারের সঙ্গে টেম্পারিং করে অবৈধ সংযোগ চালু করা হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ-সংযোগ থাকলেও ব্যবহৃত ইউনিট মিটারের গণনা করা হয় না।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর খুলনার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মুন্না বলেন, ‘খুলনা নগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে ইজিবাইক ও রিকশাভ্যানের ব্যাটারি চার্জ এবং রাখার জন্য ৩ শতাধিক গ্যারেজ গড়ে উঠেছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইকে জেলার জন্য বরাদ্দ বিদ্যুতের একটি অংশ খরচ হচ্ছে। বাকি বরাদ্দ দিয়ে জেলার বিদ্যুৎব্যবস্থা নিশ্চিত করতে গিয়ে ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে।’
ওজোপাডিকোর প্রধান প্রকৌশলী (এনার্জি, সিস্টেম কন্ট্রোল অ্যান্ড সার্ভিসেস) আব্দুল মজিদ বলেন, অবৈধ বিদ্যুৎ-সংযোগ দিয়ে চার্জিং পয়েন্ট গড়ে তোলা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাঝেমধ্যে অভিযানে অবৈধ বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ ও জরিমানা আদায় করা হয়।
তিনি আরও বলেন, গরমের কারণে একদিকে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ কমে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। সৌজন্যে খবরের কাগজ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত