শুধু যশোরেই দৈনিক ১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গিলছে ইজিবাইক-রিকশা

Passenger Voice    |    ১০:২৫ এএম, ২০২৬-০৪-২৭


শুধু যশোরেই দৈনিক ১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গিলছে ইজিবাইক-রিকশা

বিদ্যুতের চরম সংকটের মধ্যেই যশোর শহর ও জেলার ৮ উপজেলায় প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও রিকশা-ভ্যান চার্জ দেওয়া হচ্ছে। এই যানে চার্জ বাবদ প্রতি মাসে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। ফলে জেলাবাসীকে লোডশেডিংয়ের ধকল সহ্য করতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় লোডশেডিং বেশি হচ্ছে। 

যশোর পৌরসভার তথ্যমতে, শহরে অনুমোদিত ইজিবাইকের সংখ্যা ২ হাজার ৯৭৫টি এবং প্যাডেল রিকশা দেড় হাজার। অথচ বাস্তবে ২০ হাজারের বেশি অবৈধ ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা শহরের প্রধান সড়কগুলো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আর প্যাডেল রিকশা শহরে খাতা-কলমে দেড় হাজার থাকলেও বাস্তবে এক-তৃতীয়াংশও নেই। সবই এখন ব্যাটারিচালিত। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যাটারিচালিত ভ্যান। যশোর জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা ইউনুস আলী জানান, জেলায় প্রায় ৫০ হাজার ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও রিকশা-ভ্যান চলাচল করে। এ জন্য ছোট-বড় প্রায় আট হাজার চার্জ দেওয়ার জন্য গ্যারেজ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাধারণত একটি ইজিবাইকের জন্য চার থেকে পাঁচটি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি প্রয়োজন। আর প্রতি সেট ব্যাটারি চার্জের জন্য গড়ে ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ ওয়াট হিসেবে পাঁচ থেকে ছয় ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়। অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যানে ৫০০ ওয়াট হিসেবে তিন ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়। এতে অনায়াসে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা চালানো যায়। সে হিসাবে জেলার প্রায় ৫০ হাজার ইজিবাইক বা ব্যাটারিচালিত রিকশা চার্জের জন্য প্রতিদিন অন্তত ৫০ মেগাওয়াট এবং মাসে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। গ্যারেজগুলোতে এসব যান রাতভর চার্জ হয়ে থাকে। একটি ইজিবাইক চার্জের জন্য গ্যারেজ মালিককে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১২০ টাকা করে দিতে হয়। রিকশা-ভ্যানের জন্য দিতে হয় ৬০ থেকে ৭০ টাকা। 

বেশ কয়েকটি এলাকার গ্যারেজ ঘুরে জানা গেছে, এসব গ্যারেজে ব্যাটারি চার্জ দিলে প্রচুর বিদ্যুৎ বিল আসে। এ কারণে গ্যারেজ মালিকরা খরচ কমিয়ে বাড়তি টাকা আয়ের জন্য অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে থাকেন। এসব অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার পেছনে রয়েছেন বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির কিছু অসাধু কর্মকর্তা।

জানা গেছে, বেশির ভাগ শিল্প-কলকারখানা রাতে বন্ধ থাকে। মানুষও আলো নিভিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। এতে বিদ্যুতের চাহিদা কমে যায়। কিন্তু কয়েক বছর ধরে মধ্যরাতে লোডশেডিং হচ্ছে। এবার সেই লোডশেডিংয়ের পরিমাণ আরও বেশি। গভীর রাতে কেন এই লোডশেডিং, এমন প্রশ্ন উঠেছে গ্রাহকদের মনে। 

যশোর পৌর নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান ভিটু জানান, একটি ইজিবাইক বা রিকশায় একটি পরিবারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। ফলে চাইলেও এসব বাদ দেওয়া যাবে না। এ ছাড়া গ্রামীণ জনপদে সহজ যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে উঠেছে ইজিবাইক। একজন ইজিবাইক চালকের পরিবারে গড়ে পাঁচজন মানুষের নিত্যদিনের জীবনযাপনের অর্থ আসে এখান থেকে। ফলে প্রত্যক্ষভাবে এসব মানুষ ইজিবাইকের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে ইজিবাইক মেরামত এবং ইজিবাইক শিল্প-কারখানা এবং ব্যাটারিশিল্পও বিকশিত হয়েছে। ফলে এখানেও বিপুল মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ফলে এগুলোও বিবেচনায় রাখতে হবে। 

ওজোপাডিকো-১ ও ২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী জিএম মাহমুদ প্রধান বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও রিকশা-ভ্যানগুলো চার্জ দিতে অনেক বিদ্যুৎই লাগে। তবে কী পরিমাণ লাগে তার পরিসংখ্যান নেই। বর্তমানে বিদ্যুতের ঘাটতি থাকায় বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং থাকবে না।’ তবে গ্যারেজে অবৈধ সংযোগের বিষয়ে জানা নেই বলে জানান মাহমুদ প্রধান।