গ্যাস সঙ্কটের কারণেই লোডশেডিং বেড়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

Passenger Voice    |    ০৩:২৮ পিএম, ২০২৬-০৪-২৪


গ্যাস সঙ্কটের কারণেই লোডশেডিং বেড়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

গ্যাস সঙ্কটের কারণেই লোডশেডিং বেড়েছে জানিয়ে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, আমাদের সব থেকে বড় সমস্যা বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনো গ্যাস নির্ভর। গ্যাসও আমদানি করতে হয়।

তিনি বলেন, দেশে মাত্র ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হয়। আর নয় মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়।

কিন্তু অর্থের সংস্থান হলেও কিছু সমস্যার কারণে চাহিদা মাফিক গ্যাস আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে লোডশেডিং বেড়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজারে বাসিয়া খাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, লোডশেডিংসহ অনেকগুলো অব্যবস্থাপনা ও অরাজকতা আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছি।

যদিও সরকারের বয়স মাত্র দুই মাস, এরপরও সরকারকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে। এলএনজি আমদানি ক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন টার্মিনাল তৈরির জন্যও জ্বালানি মন্ত্রণালয় টেন্ডারে যাচ্ছে।

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও মূল্যস্ফীতিতে তেমন প্রভাব পড়বে না। দেশে ডিজেলের দাম মাত্র ১৫ শতাংশ বেড়েছে। যেখানে পার্শ্ববর্তী দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাংলাদেশ থেকে বেশি। অবশ্য আমরা সতর্কভাবে ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি করেছি। যাতে জনগণের ওপর বেশি অভিঘাত না পড়ে।

তিনি আরও বলেন, ১৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধির ফলে একটি ট্রাক যদি ২০০ কিলোমিটার পণ্য পরিবহন করে তাহলে কেজিপ্রতি পণ্যমূল্য ৩০ পয়সা বাড়তে পারে। এটুকু বৃদ্ধি সত্যিকার মূল্যস্ফীতিতে কোনো প্রভাব পড়বে না। এমনকি বাড়তি মূল্যে জ্বালানি আমদানি করলেও তার অভিঘাত জনগণের ওপর পড়বে না, সরকার তা ম্যানেজ করবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিভিন্ন বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি খাতে দেশ জিম্মি হয়ে যায়, তা থেকে উত্তরণে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্টোরেজ নির্মাণ করবে। 

আগামী ২ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেটের বাসিয়া খাল খননের উদ্বোধন করবেন। এরই প্রস্তুতি হিসেবে বাসিয়া খাল পরিদর্শনে যান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তার সঙ্গে ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

বাসিয়া খাল খননের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৪০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খালটি খনন হবে ২৩ কিলোমিটার। সিলেট সদরের মাসুকগঞ্জ বাজার থেকে শুরু হয়ে ওসমানীনগর উপজেলা হয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পর্যন্ত খনন হবে। এতে কমপক্ষে ৯০ হাজার কৃষক উপকার পাবে। শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বাড়তি ফসল উৎপাদন হবে।

পরিদর্শনকালে সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।