শিরোনাম
Passenger Voice | ১২:২৭ পিএম, ২০২৬-০৪-২২
চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তাদের পুনর্বহালের বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, যারা চাকরি হারিয়েছেন, তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। ফলে বিষয়টি এখন আদালতে বিচারাধীন আছে। এ ব্যাপারে একটি তদন্ত চলছে। এরই ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যক্রম গ্রহণ করবে।
গত সোমবার সংসদে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের সংসদ সদস্য মো. জহিরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তাদের দায়ের করা অনেক মামলা আছে। সেগুলো বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগ ও শ্রম আদালতে শুনানি পর্যায়ে রয়েছে। হাইকোর্টে রিট পিটিশনকারীদের আবেদন নিষ্পত্তির ব্যাপারে আদালতের নির্দেশনা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রতিপালিত হয়েছে। তবে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, বিধায় এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ নেই। তবুও আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি, বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যাপারে কাজ করছে।’
সংসদ সদস্যের উত্থাপিত বিষয়টির প্রতি অর্থমন্ত্রী সহানুভূতি জানিয়ে সংসদে বলেন, ‘আমি আপনার সঙ্গে সহানুভূতিশীল হয়েই বলছি, কেননা, আমার এলাকার অনেকের চাকরি চলে গেছে এবং এই চাকরি যাওয়ার পেছনে অনেক ঘটনা আছে। সেটি আমি সংসদে বলতে চাই না। বললে বিতর্ক সৃষ্টি হবে। কারণ অনেকের ধারণা, অনেক ব্যাংক যারা ওউন করেন, তারা তাদের নিজস্ব লোকজনকে রেখে বাকি লোকজন বিদায় করে দিয়েছেন। এ রকম একটা পাবলিক ধারণা আছে। এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত বলতে চাই না। সুতরাং এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে, যারা চাকরি হারিয়েছেন, এগুলোর ব্যাপারে একটি দীর্ঘ তদন্ত চলছে। এরই ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যক্রম গ্রহণ করবে।’
এর আগে গত রবিবার অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত হওয়া ইসলামি ধারার ছয়টি ব্যাংকের ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করছেন ভুক্তভোগীরা। ব্যাংকগুলো হলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তারা বলেন, ‘গত কয়েক মাসে দেশের ছয়টি ইসলামি ধারার ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত, বৈষম্যমূলক ও প্রতিহিংসামূলক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। অযৌক্তিক বদলি, মানসিক ও শারীরিক হয়রানি চালানো হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের অনেককেই অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী এই অন্যায়ের শিকার হয়েছেন, যা বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে নজিরবিহীন। শুধু তা-ই নয়, মানবসম্পদ নীতিমালা লঙ্ঘন করে যোগ্যতাহীন ব্যক্তিদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং প্রকৃত দক্ষ ও অভিজ্ঞদের অন্যায়ভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ আমাদের জীবনের সঞ্চয়, আমাদের পরিবারের স্বপ্ন, আমাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ–সবকিছুই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে নিমজ্জিত।’
তারা বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির না করার অপরাধে আমাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। জামায়াত-শিবির সমর্থক হলে আজ আমাদের এই দুরবস্থায় পড়তে হতো না। শুধু দলীয় ব্যানার না থাকায় যদি আমাদের চাকরিচ্যুত হতে হয়, সেটি রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জাজনক।’
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত