শিরোনাম
Passenger Voice | ০৪:০৮ পিএম, ২০২৬-০৪-২১
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন দপ্তরের খালি পদের নিয়োগ জটিলতায় মাস্টার রোলে কর্মচারী নিয়োগ করা হয়। অস্থায়ী (টিএলআর) ভিত্তিতে নিয়োজিত কর্মচারীরা স্বাভাবিক নিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ রেওলয়েতে চাকরি স্থায়ী করতে না পারলে পরবর্তীতে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে রিট পিটিশন দায়ের করে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োজিত শ্রমিকরা রেওয়ের রাজস্ব খাতে স্থায়ী শূণ্য পদের বিপরীতে নিয়োগ প্রাপ্ত হচ্ছে। ২০১৪ সালে এই ধরনের ৫টি রিট পিটিশন দায়ের করেন শ্রমিকরা। এই শ্রমিকদের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী আজিজুর রহমান।
প্যাসেঞ্জার ভয়েসের অনুসন্ধান বলছে, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে দয়েরকৃত রিট পিটিশন নং- ২২৪৫/২০১৪, ১১২২/২০১৪, ৬৯৫৮/২০১৪, ৬২৪৫/২০১৪ এবং ৪৪০২/২০১৪ আবেনকারীগণ নিরবিচ্ছিন্নভাবে ৫ বছর চাকুরির প্রত্যয়নপত্র, হাজিরা শিট ও বেতনপত্রের কপি এবং জাতীয় পরিচয়পত্র, নাগরিক সনদ, শিক্ষা সনদসহ কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সঠিক পাওয়া গেলে উক্ত কর্মচারীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও শারিরীক উপযুক্ততা পরীক্ষা করে নিয়োগ স্থায়ী করা হয়। ২০১৪ সালের ৫টি রিট পিটিশন মামলায় ২১২ জন আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাইয়ের নিমিত্তে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তৎকালীন অতিঃ চীপ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পশ্চিম) মোছাঃ রশিদা সুলতানা গণিকে আহ্বায়ক করে সিনিয়র পার্সোনেল অফিসার (পশ্চিম) , কামাল শেখকে সদস্যসচিব ও যন্ত্র প্রকৌশলী মোঃ সাইদুর রহমান, বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ মহিউদ্দীন আরিফ ও মোহাম্মদ আসাদুল হককে সদস্য করা হয়। উক্ত কমিটির ২১২ জনের মধ্যে ১৪ জনকে নিয়মিত করনের সুপারিশ করা হয়। এভাবে বাংলাদেশ রেলওয়েতে প্রায় ১২২৭ জন কর্মচারীকে স্থায়ীকরণ করা হয়।
এদিকে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে দায়েরকৃত রিট পিটিশন নং-৫৭৭৪/১০ এবং ৯২৩৩/১১ ও পরবর্তীতে সিপিএলএ নং-৫১৬/২০১৫ ও ৫১৭/২০১৫ এর রায় ও আদেশের বিরুদ্ধে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টেও আপিল বিভাগে রিভিউ পিটিশন প্রক্রিয়াধীন থাকায় রিট পিটিশন দ্বয়ের রায় বাস্তবায় না হওয়ায় উদ্ভাবিত কনটেম্পট পিটিশন নং-২২/২০২৫ এর আদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের উভয় অঞ্চলের বিভিন্ন দপ্তওে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োজিত ওয়েম্যান, গেটকিপার, খালাসি, ট্রলিম্যান, চৌকিদার এবং সুইপার পদে ১০৩ জনের কাগজপত্র যাচাই করে নিয়োগ স্থায়ী করার জন্য আদেশ দিয়েছিলো আদালত।
পরবর্তীতে ২০১৮ সালেও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টেও হাইকোর্ট ডিভিশনে দুইটি রিট পিটিশন দায়ের হয়। পিটিশন নং-৮৩৪৯/২০১৮ ও ১৪৬৯২/২০১৮। উক্ত ২ মামলায় ৩৩৯ জন অস্থায়ী কর্মচারী চাকরি স্থায়ীকরনের জন্য আবেদন করেন। হাইকোর্ট বিভাগে কনটেম্পট পিটিশন নং- ১৩২/২০২০ ও ১১৭/২০২০ দায়ের করেন। কনটেম্পট রুল পাওয়ার পর রেলওয়ে প্রশাসন ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি যাচাই বাছাই কমিটি গঠন করেন। কমিটি পরবর্তীতে ২৪৩ জন কনটেম্পট পিটিশনারের মধ্যে ৮৩ জনের চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য সুপারিশ করেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক বাধ্য বাধকতার কারণে রিট পিটিশন দুইটির রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিলের বিভাগের আপিল নং -১৬৪/২০২১ এবং ১৩৬৩/২০২০ দায়ের করেন যা বর্তমানে আদেশের অপেক্ষাধীন রয়েছে। আপিল নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ৮৩ জন কর্মচারীর চাকরি স্থায়ীকরণ সম্ভব নয়। এই সমস্ত রিট পিটিশন দায়ের এবং চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়ে ওয়েম্যান মোহাম্মদ আজিজের বিরুদ্ধে নানা রকম অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে প্যাসেঞ্জার ভয়েসের অনুসন্ধানে পিটিশনারদের পক্ষে বিপক্ষে বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে মোহাম্মদ আজিজ প্যাসেঞ্জার ভয়েসকে বলেন, চাকরিতে যোগদানের পরে একদিন ব্যতীত কখনো কর্মস্থলে ফাঁকি দেইনি। এছাড়া নিয়োগ বাণিজ্য, তদবির বণিজ্য, ও দখলের মত কোনো কাজে তিনি সম্পৃক্ত নন বলে জানান। তবে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের ন্যায্য অধিার আদায়ে সঠিক বিচারের জন্য মহামান্য হাইকোর্টের রিট পিটিশন আবেদনকারীদের পক্ষে আমার অবস্থান সব সময় ছিলো এবং থাকবে। সামপ্রতিক একটি স্বার্থান্নেসী মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারে ব্যস্ত রয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত