আখাউড়ায় মাছ রপ্তানিকারকদের কপালে ভাঁজ

Passenger Voice    |    ১২:৩৯ পিএম, ২০২৬-০৪-২১


আখাউড়ায় মাছ রপ্তানিকারকদের কপালে ভাঁজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরের রপ্তানি বাণিজ্যে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে মাছ রপ্তানিতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যদিও এখনো বড় ধরনের ধস নামেনি, তবে খরচ বাড়ার এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সামনে পণ্যের দাম ও রপ্তানি–দুই ক্ষেত্রেই চাপ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
 
আখাউড়া স্থলবন্দরের মাছ রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক মিয়া বলেন, এ বন্দর দিয়ে রপ্তানিকৃত পণ্যের মধ্যে মাছ অন্যতম। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল–বিশেষ করে যশোর, সাতক্ষীরা ও ময়মনসিংহ থেকে এসব মাছ আনা হয়। কিন্তু সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিনি জানান, সাতক্ষীরা থেকে আসা একটি ট্রাকের ভাড়া তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, আর ময়মনসিংহ থেকে আসা গাড়ির ভাড়া বেড়েছে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। এতে ব্যবসার খরচ বাড়ছে, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে প্রভাব ফেলতে পারে।
 
স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবসায়ী সজিব মিয়া বলেন, ‘পরিবহন খরচ বাড়ায় বাধ্য হয়ে আমাদের বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে ক্রেতাদের ওপরও চাপ পড়ছে।’ তিনি আশঙ্কা করেন, এ অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
 
উপজেলার সচেতন নাগরিক উন্নয়ন কমিটির সহসভাপতি মুসলেম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, জ্বালানি তেলের সঙ্গে প্রায় সব খাতই সংশ্লিষ্ট। ফলে এর মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য থেকে শুরু করে রপ্তানি খাত পর্যন্ত সর্বত্র পড়ছে।
 
আখাউড়া স্থলবন্দরের সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নেসার উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, রপ্তানিতে এখনো বড় ধরনের প্রভাব না পড়লেও খরচ বেড়েছে। আগে ১০ টাকার পণ্য এখন ১২ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এতে লাভের মার্জিন কমে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।
 
তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আছে। আখাউড়া স্থলবন্দর ইনচার্জ মেহেদী হাসান জানান, এ বন্দরে আমদানি কার্যক্রম প্রায় নেই বললেই চলে। তাছাড়া বর্তমান মৌসুমে মাছ রপ্তানি স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা কম থাকে। ফলে এখন পর্যন্ত তেমন দৃশ্যমান প্রভাব পড়েনি।
 
অন্যদিকে প্রশাসন বলছে, বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, এখানে জ্বালানি তেলের বড় কোনো ডিলার নেই, খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হয়। ফলে তদারকি কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। তারপরও সরকার নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়নে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। তিনি জানান, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।