শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:০৪ এএম, ২০২৬-০৪-২১
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের লজিস্টিকস খাতে। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে বেসরকারি ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো বা অফ-ডকগুলোতে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ সাড়ে ৮ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা)।
রবিবার থেকে নতুন এই বর্ধিত হার কার্যকরের নির্দেশনা দিয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে সংগঠনটি।
বিকডার মহাসচিব মোহাম্মদ রুহুল আমিন সিকদার স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ডিপো পরিচালনার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। তাই নতুন করে সমন্বিত এই হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে সর্বশেষ পর্যালোচিত দামের ওপর সাড়ে ৮ শতাংশ চার্জ বাড়ানো হয়েছে।
বর্ধিত এই হার যে খাতগুলোতে প্রযোজ্য
১. চট্টগ্রাম বন্দর ও ডিপোর (আইসিডি) মধ্যে খালি কন্টেইনার পরিবহন বা হাউলেজ চার্জ।
২. পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) ও ডিপোর মধ্যে খালি কন্টেইনার পরিবহন খরচ।
৩. খালি কন্টেইনার লিফট-অন ও লিফট-অফ চার্জ।
৪. রপ্তানি পণ্য স্টাফিং/হ্যান্ডলিং প্যাকেজ চার্জ। এই চার্জের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, খালি ইয়ার্ডে খালি কন্টেইনার উত্তোলন, খালি ইয়ার্ড থেকে সিএফএস শেড পর্যন্ত খালি কন্টেইনার পরিবহন, খালি কন্টেইনারে রপ্তানি পণ্য স্টাফিং করা, স্টাফিংয়ের পর লোড ইয়ার্ডে রপ্তানি পণ্য বোঝাই কন্টেইনার পরিবহন, লোড ইয়ার্ডে রপ্তানি পণ্য বোঝাই কন্টেইনার উত্তোলন, জাহাজ নির্ধারণের পর লোড ইয়ার্ডে রপ্তানি পণ্য বোঝাই কন্টেইনার উত্তোলন এবং চট্টগ্রাম বন্দরে রপ্তানি পণ্য বোঝাই কন্টেইনার পরিবহন।
৫. রপ্তানি পণ্য বোঝাই কন্টেইনার ভিজিএম চার্জ। এই চার্জের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, লোড ইয়ার্ডে রপ্তানি লোডেড কন্টেইনার উত্তোলন, লোড ইয়ার্ড থেকে ওজন স্কেল পর্যন্ত রপ্তানি পণ্য বোঝাই কন্টেইনার পরিবহন, ওজন স্কেলে রপ্তানি পণ্য বোঝাই কন্টেইনারের ওজন পরিমাপ, রপ্তানি পণ্য বোঝাই কন্টেইনার পুনরায় লোড ইয়ার্ডে পরিবহন, লোড ইয়ার্ড থেকে রপ্তানি পণ্য বোঝাই কন্টেইনার উত্তোলন এবং
৬. আমদানি পণ্য ডেলিভারি প্যাকেজ চার্জ। এই চার্জের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আইসিডি পর্যন্ত আমদানি পণ্য বোঝাই কন্টেইনার পরিবহন, আইসিডিতে পণ্য বোঝাই কন্টেইনার উত্তোলন, আমদানি ডেলিভারি ইয়ার্ডে পণ্য বোঝাই কন্টেইনার স্থাপন, কন্টেইনার থেকে শ্রমিকসহ ট্রাকে আমদানি পণ্য ডেলিভারি।
জানতে চাইলে চট্টগ্রামের মদিনা গার্মেন্টসের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ মুছা বলেন, চার্জ না বাড়ানোর বিষয়ে আদালতের রায় এবং মন্ত্রণালয়ের নিষেধ আছে। তবুও তারা কিছুদিন অন্তর চার্জ বাড়ায়। এমনিতে বিদেশি কার্যাদেশ নেই। লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানা চালাতে পারি না। তার ওপর যদি তারা চার্জ বাড়ায় শেষ পর্যন্ত ব্যবসা গুটিয়ে চলে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।
জানতে চাইলে রুহুল আমিন সিকদার বলেন, প্রতিটি আইসিডিকে আমরা পরামর্শ দিয়েছি তারা যেন তাদের নিজ নিজ গ্রাহকদের সর্বশেষ পর্যালোচিত হার কার্যকর করেন। চার্জ না বাড়ানোর বিষয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ এপ্রিল মাসে শেষ হয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে ২০ শতাংশ চার্জ বাড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে সময় চার্জ বাড়ানো হয়েছিল অন্য কারণে। তখন বিকডার পক্ষ থেকে ৬০ শতাংশ দাবি করলেও সিদ্ধান্ত হয় ২০ শতাংশ বাড়ানোর। বর্তমানের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। সরকার এখন ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়িয়েছে। সেই অতিরিক্ত খরচ আমরা কোথায় পাব। চার্জ না বাড়িয়ে উপায় নেই।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অফ-ডকগুলোতে হ্যান্ডলিং চার্জ বৃদ্ধির ফলে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের পরিবহন ব্যয় আরও এক দফা বাড়বে। যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।
এদিকে চট্টগ্রামে পণ্য পরিবহন খাতে ভাড়া আগেই বেড়ে গিয়েছিল। চট্টগ্রাম বন্দর এবং কন্টেইনার ডিপোগুলো থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় পণ্য নিয়ে যাওয়া ট্রাক, লরিগুলো ভাড়া মূলত মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই বেড়ে যায়। তবে গণপরিবহনের ভাড়া এখনো বাড়েনি।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে কাঁচাবাজারে। জানতে চাইলে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম বলেন, বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে শাকসবজি নিয়ে যেসব ট্রাক আসে তারা ভাড়া বাড়িয়েছে। যার প্রভাব শাকসবজিতে পড়েছে। তিনি জানান, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির চেয়েও তাদের সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে লোডশেডিং। একদিকে ডিজেলের দাম বেড়েছে। অপরদিকে সরকারনির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দিয়েও ডিজেল কিনতে কষ্ট হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে দোকানের খরচ বেড়েছে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাকেই পরিশোধ করতে হবে।
অপরদিকে চট্টগ্রাম রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতির সভাপতি ছালেহ আহমদ সোলেমান জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম নগর ও জেলা মিলে দেড় হাজারের কাছাকাছি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। কেউ ভালো নেই। সন্ধ্যার পর যেহেতু মার্কেট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে রেস্টুরেন্টগুলো ক্রেতা পাচ্ছে না। অপরদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে প্রায়শ রেস্টুরেন্ট অন্ধকারে আচ্ছন্ন হচ্ছে। জেনারেটর চালাতে গিয়ে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এক কথায় বলতে গেলে ব্যবসার পরিবেশ নেই।
জানতে চাইলে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, মামলার বাধা না থাকলেও ডিপোর চার্জ বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটু সময় নেওয়া দরকার ছিল। এভাবে হুট করে নিজেদের মতো করে চার্জ বাড়িয়ে দেওয়া মানেই দিন শেষে সেটা ভোক্তার ওপর চাপ তৈরি হওয়া।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত