শিরোনাম
Passenger Voice | ১০:৫৬ এএম, ২০২৬-০৪-২০
জ্বালানির দাম বাড়ার পরও তেলের সংকট কাটেনি। উল্টো যশোরের বাজারে ডিজেল ও পেট্রলের জন্য হাহাকার তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে এই অঞ্চলের কৃষি, ব্যবসা এবং পরিবহন খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি আগের মতোই রয়ে গেছে।
গতকাল রবিবার সকাল থেকেই যশোরের অধিকাংশ পাম্পে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পাম্পগুলোতে কয়েক শ মিটারের দীর্ঘ লাইন ডিঙিয়েও দুপুরের পর অনেকে তেল পাননি। অনেক পাম্প কর্তৃপক্ষ ‘তেল নেই’ জানিয়ে পাম্প বন্ধ রেখেছেন, যা সাধারণ চালকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
শহরের গাড়িখানা রোডে দুপুরে তেল কিনতে আসা ইয়াসিন আরাফাত বলেন, ‘ভাবলাম তেলের দাম বেড়েছে সারা দিন পাম্প খোলা থাকবে। দুপুর ২টার সময় এসেও দেখি পাম্প বন্ধ। পাম্প থেকে বলছে তেল শেষ।’
যশোর জেলা মাছ, ফুল এবং সবজি উৎপাদনের জন্য সারা দেশে বিখ্যাত। এখান থেকেই প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় যায়। কিন্তু জ্বালানিসংকটের কারণে পরিবহনের চাকা থমকে গেছে। গাড়ির ভাড়া হয়েছে দ্বিগুণ।
বর্তমানে এ অঞ্চলে ভুট্টার মৌসুম চলায় মাড়াই কাজে ডিজেলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সোলাইমান হোসেন বলেন, ‘আমরা ভুট্টা মাড়াই মেশিন চালাচ্ছি, যা পুরোপুরি ডিজেলে চলে। আগে ডিজেল পাচ্ছিলাম না বলে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। ভেবেছিলাম দাম বাড়লে হয়তো পাওয়া যাবে। কিন্তু এখন দাম বেড়েও তেল মিলছে না। এক দিকে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী, অন্যদিকে সময়মতো কাজ করতে না পেরে এ বছর বড় ধরনের লোকসানের মুখে আছি।’
পরিবহন খাতেও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়েছে। গতকাল সকাল থেকেই আন্তজেলা বাসের ভাড়া বেড়ে গেছে। দূরপাল্লার বাস ভাড়া বৃদ্ধির গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। সকালে অনেক যাত্রী আগের ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারলেও রাত থেকে চিত্র পাল্টে যাবে বলে বিকেলে জানিয়েছিলেন স্থানীয় লিটন ট্রাভেলসের এক কর্মকর্তা।
রায়হান সিদ্দিকী নামে এক যাত্রী জানান, সকালে বাস ভাড়া বাড়েনি দেখে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলাম। কিন্তু বাসের স্টাফরা বলছে রাত থেকে ভাড়া বাড়তে পারে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় যশোরের পাইকারি ও খুচরা বাজারে কাঁচামালসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। সবজি ও মাছের দাম আগের চেয়ে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে গেছে।
ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বাবু বলেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ে দাম আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
যশোর পৌর নাগরিক কমিটির সভাপতি জিল্লুর রহমান ভিটু বলেন, কেবল দাম বাড়িয়ে সংকট সমাধান সম্ভব নয়। তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করে দ্রুত বাজার মনিটরিং নিশ্চিত করতে না পারলে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষি ও বাণিজ্য খাত দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত