দূরপাল্লার গাড়ির ভাড়া বাড়ানোর অপেক্ষা

Passenger Voice    |    ১০:৫২ এএম, ২০২৬-০৪-২০


দূরপাল্লার গাড়ির ভাড়া বাড়ানোর অপেক্ষা

চট্টগ্রামে পরিবহন খাতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি গণপরিবহনে ভাড়া বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যদিও রবিবার বিকেল পর্যন্ত আগের ভাড়াই কার্যকর ছিল।

গতকাল নগরীর বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী যাত্রীবাহী পরিবহনের চালক, শ্রমিক ও মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন পরিচালনা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে বিদ্যমান ভাড়ায় সেবা চালিয়ে যাওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।

তবে চট্টগ্রাম নগরভিত্তিক অভ্যন্তরীণ সড়কে এরই মধ্যে ছোট গাড়ির চালকদের ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হিউম্যান হলার, মাহিন্দ্রা (ডিজেলচালিত) বহদ্দারহাট থেকে দামপাড়া এবং বহদ্দারহাট থেকে নতুন ব্রিজ পর্যন্ত জনপ্রতি ৫ টাকা বাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে যাত্রীদের সঙ্গে হট্টগোলেরও ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে গণপরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না আসায় পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। দ্রুত ভাড়া সমন্বয় ও কার্যকর নজরদারি না হলে পরিবহন খাতে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বাসমালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, সরকার জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারের সর্বোচ্চ ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। কিন্তু তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে যাত্রীর ভাড়া কি পরিমাণ বাড়ানো হবে সে নির্দেশনা আসেনি। আমাদের সমিতির কেন্দ্রীয় নেতারা বসে সেটি ঠিক করবেন। তখন আমরা বর্ধিত হারে ভাড়া নেব।

চট্টগ্রাম মহানগর পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের কোষাধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন বলেন, নগরীর কোনো যানবাহনের ভাড়া এখনো বাড়ানো হয়নি। আমাদের সমিতির কার্যকরী পরিষদের সভার মাধ্যমে তা বাড়ানো হবে। তবে আমরা খোঁজ রাখছি, যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে না।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সব খাতে পড়বে। বেশি পরিবহন ভাড়াতেই বন্দরের পণ্য পাঠাতে হচ্ছে। আগে যেখানে চট্টগ্রামের আশপাশ থেকে বন্দরে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায় পণ্য পাঠানো যেত, সেখানে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাইছে ট্রাক কাভার্ডভ্যান মালিকরা। নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা এবং উত্তরাঞ্চল থেকে বন্দরে পণ্য আনতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিটি চালানে পরিবহন বাবদ অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। এই চাপ গিয়ে পড়বে ভোক্তার ওপর। বন্দর থেকে পণ্য আনার ভাড়া কয়েক ধাপে বেড়েছে। কিন্তু আমরা সঙ্গে সঙ্গে পণ্যের দাম বাড়াতে পারি না। এতে করে আমাদের লাভের মার্জিন কমে যাচ্ছে।’

আন্তজেলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী জাফর আহম্মদ বলেন, ট্রাক, লরি, কার্ভাডভ্যানসহ পণ্যবাহী যান চট্টগ্রাম থেকে সড়কপথে ঢাকায় নিতে খরচ ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বন্দর কিংবা চট্টগ্রামের কারখানা থেকে ঢাকায় পণ্য পরিবহন খরচ আগে ছিল প্রায় ৩০ হাজার টাকা। এখন আদায় হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে পণ্য আনতে পরিবহন খরচ ৫ হাজার টাকা বেড়েছে। অর্থাৎ আগে ২০ হাজার টাকায় পণ্য আনা গেলেও এখন গুনতে হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা।