নওগাঁয় পড়ে আছে ৩০ কোটি টাকার সেতু

Passenger Voice    |    ১২:১৭ পিএম, ২০২৬-০৪-১৬


নওগাঁয় পড়ে আছে ৩০ কোটি টাকার সেতু

নওগাঁর মহাদেবপুরের আত্রাই নদীর ঘাটটি কয়েক উপজেলার মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ প্রতিদিন এই ঘাটটি পারাপার হয়ে থাকেন। শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো আর বর্ষায় খেয়া নৌকা ছাড়া এই নদী পার হওয়ার আর কোনো ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে বর্ষায় এই ঘাট পারপারে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পাঁচ বছর আগে এখানে একটি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ব্রিজের কাজও এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু সংযোগ সড়কের অভাবে এটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। মূলত ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।  

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আত্রাই নদীর শিবগঞ্জ গোপিনাথপুর বাজার এলাকায় ২০২১ সালে মার্চ মাসে ২৫৯ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটির কাজ শুরু হয়। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৩০ কোটি ৫৯ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। কাজ পায় রাজধানীর দিলকুশার ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার নামে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালের আগস্টে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তা না হওয়ায় পরে দুই দফা সময় বাড়ানো হয়। কিন্তু এরপর দেখা দেয় নতুন জটিলতা। সংযোগ সড়ক বানাতে গিয়ে সংশ্লিষ্টরা জমি অধিগ্রহণের জটিলতায় পড়েন। এর পর থেকে বাকি কাজ বন্ধ। সেতুর দুপাশ বেড়া দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। এখন যাতায়াতকারীদের খেয়া নৌকা কিংবা বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পার হতে হয়। সারা বছর পরিস্থিতি কোনো রকম থাকলেও বর্ষা মৌসুমে এই নদী পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সেতুটির পূর্ব পাশে উত্তরগ্রাম ইউনিয়ন, পশ্চিমে চান্দাশ ইউনিয়ন। উপজেলা সদর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে এটির অবস্থান। সেতুর নিচে থাকা আত্রাই নদীর এক পাশে শিবগঞ্জ বাজার, অন্য পাশে গোপিনাথপুর ছোট বাজার। দুপাশেই একটি করে খেয়াঘাট রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো এবং বর্ষায় নৌকা দিয়ে মান্দা, পত্নীতলা ও পোরশা উপজেলার চার থেকে পাঁচ হাজার বাসিন্দাকে এই নদী পার হতে হয়। তাদের মধ্যে থাকেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি নানা বয়সের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। শুষ্ক মৌসুমে তেমন ঝুঁকি না থাকলেও বর্ষায় এই নদী পার হতে সবাইকে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। তাদের দুর্ভোগ কমাতে নদীর ওপর সেতুর কাজ শুরু হয়। কিন্তু সেতুর অবকাঠামোর কাজ শেষ হলেও শুধু সংযোগ সড়ক না হওয়ায় গত এক বছরেও এটি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়নি।

স্থানীয়রা বলছেন, খেয়াঘাট দিয়ে কখনো নৌকায় আবার কখনো বাঁশের সাঁকোতে পারাপার হতে হয়। বর্ষায় নদী পার হতে নৌকার জন্য আধা ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হয়। তখন নৌকা পার হওয়া রীতিমতো আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সেতুটি দ্রুত সময়ের মধ্যে চালু হলে স্থানীয়দের দুর্ভোগ কেটে যেত।

খেয়াঘাটের ইজারাদার বিদ্যুৎ হোসেন বলেন, প্রয়োজনের তাগিতে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হয়ে থাকেন। ব্রিজ নির্মাণের মধ্য দিয়ে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে এটি এখনো চলাচলের উপযোগী হয়নি।

নওগাঁ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বদরুদ্দোজা বলেন, ‘জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় ব্রিজের সংযোগ সড়কের কাজটি থেমে আছে। এ কারণে চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে দ্রুত এ সমস্যা সমাধান হবে। তখন ব্রিজটি চলাচলের উপযোগী হবে।’