সীতাকুণ্ডে ৭নং বাস রুটে চাঁদা কেলেঙ্কারি,থানায়ও মিলছে না সুরাহা

Passenger Voice    |    ১২:৫১ পিএম, ২০২৬-০৪-১৩


সীতাকুণ্ডে ৭নং বাস রুটে চাঁদা কেলেঙ্কারি,থানায়ও মিলছে না সুরাহা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বড় কুমিরা এলাকায় ৭নং বাস রুটের শ্রমিকদের মধ্যে চাঁদার টাকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ, অসন্তোষ ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রায় ১৯ মাস ধরে শ্রমিকদের কাছ থেকে সংগৃহীত প্রায় ১১ লাখ ৬০ হাজার টাকা রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট সমিতির কমিটির বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এই বিপুল অঙ্কের টাকার কোনো হিসাব তাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। বরং বারবার হিসাব চাইতে গেলে উল্টো হুমকি, ভয়ভীতি এবং মারধরের আশঙ্কায় দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

শ্রমিকরা জানান, গত ৫ আগস্টের পর ৭নং বাস রুটের প্রায় ৮০টি বাসের ২০০ জনেরও বেশি ড্রাইভার ও স্টাফ মিলে একটি সমিতি গঠন করেন। শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে ১১ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতিটি বাস থেকে প্রতিদিন ২০ টাকা করে চাঁদা আদায়ের সিদ্ধান্ত হয়। সেই হিসাবে দৈনিক প্রায় ১,৬০০ টাকা এবং মাসিক প্রায় ৪৮ হাজার টাকা তহবিলে জমা হওয়ার কথা ছিল।

এই তহবিল থেকে দুর্ঘটনা, অসুস্থতা বা আর্থিক সংকটে থাকা শ্রমিকদের সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। সমিতি গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মাসিক হিসাব বা আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি বলেও জানান তারা।

একাধিক ড্রাইভার ও স্টাফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা নিজেদের কষ্টার্জিত টাকা ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য জমা দিয়েছি। কিন্তু এখন সেই টাকার কোনো খোঁজ নেই। হিসাব চাইলে উল্টো আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে—এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”

শ্রমিকদের আরও অভিযোগ, হিসাব চাওয়ায় কমিটির কিছু সদস্য তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি শারীরিকভাবে আক্রমণের আশঙ্কাও করছেন অনেকেই। ফলে পুরো শ্রমিক সমাজের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা দ্রুত স্বচ্ছ হিসাব প্রদান এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।অভিযোগে সুরাহা হচ্ছেনা বরং সীতাকুন্ড থানার এসআইকে বদলীর হুমকির দিচ্ছে বলে জানান চালকরা।

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মহিনুল ইসলাম জানান, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ড্রাইভার-স্টাফ ও সমিতির কমিটির সদস্যদের নিয়ে বসে একটি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। সমাধান না হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পরে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই মোঃ রাশেদকে। তিনি উভয় পক্ষকে নিয়ে একাধিক বৈঠকের উদ্যোগ নেন। প্রথম বৈঠকে কমিটির সদস্যরা টাকার কোনো সন্তোষজনক হিসাব দিতে ব্যর্থ হন এবং আরও দুই দিনের সময় চান।

পরবর্তীতে নির্ধারিত ১২ এপ্রিলের বৈঠকে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। ড্রাইভার-স্টাফরা উপস্থিত থাকলেও কমিটির কোনো সদস্যই বৈঠকে হাজির হননি। অভিযোগ রয়েছে, এক শ্রমিক ফোন করলে কমিটির এক সদস্য তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, “টাকা দিব না, যা পারো করো—মামলা করলেও আমাদের কিছু হবে না।”

শুধু তাই নয়, সংশ্লিষ্ট এসআইয়ের বিরুদ্ধেও বদলির হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি শ্রমিকদের।

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শ্রমিকরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।