শিরোনাম
Passenger Voice | ১০:৫৬ এএম, ২০২৬-০৪-১১
গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ব্রহ্মপুত্র নদে অসময়ে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে করে উদ্বেগ বাড়ছে নদীতীরবর্তী মানুষের মাঝে। বিশেষ করে নদের অব্যাহত ভাঙনে এখন চূড়ান্ত ঝুঁকির মুখে পড়েছে ১৫৭ কোটি টাকার বালাসী লঞ্চ ও ফেরিঘাট টার্মিনাল। বর্তমানে মূল স্থাপনা থেকে মাত্র কয়েক হাত দূরেই নদীর অবস্থান থাকায় যে-কোনো মুহূর্তে এটি নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রায় দুই মাস আগে হঠাৎ করেই এ এলাকায় নদীভাঙন শুরু হয়। প্রথম ধাক্কায় টার্মিনাল সংলগ্ন প্রায় ১০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর কয়েকদিন আগে আবারও প্রায় ৪০ মিটার জায়গা নদীতে ভেঙে পড়ে। এভাবে ভাঙনে অব্যাহত থাকায় লঞ্চ টার্মিনাল, দোকানপাট, গুদামঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে।
ঘাট এলাকার ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, নদীর পাড় প্রতিদিনই একটু একটু করে ভেঙে পড়ছে। এতে করে অনেকেই তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। তবে স্থায়ী স্থাপনা সরানো সম্ভব না হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা।
বালাসীঘাট এলাকার ব্যবসায়ী রেজাউল করিম বলেন, ভাঙতে ভাঙতে প্রতিদিনই নদী কাছে চলে আসছে। যেভাবে ভাঙন বাড়ছে, তাতে বর্ষা এলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা আসলাম বলেন, চোখের সামনে নদী ভাঙে সামনে দিকে আসছে। ভুট্টাসহ জমি গুলো ধপাস ধপাস করে নদী পড়ছে। কেউ তো নদীর পাড়ের মানুষের খোঁজ খবর নিচ্ছে না।
কৃষক আজগর আলী বলেন, অসময়ে নদী ভাঙ্গনে বেশ কিছু জমি নদীতে ভাঙ্গে পড়ছে। খুব চিন্তায় আছি। ধার-দেনা করে কষ্টের আধা-পাকা ভুট্টাগুলো ঘরে তুলতে পারবো কিনা জানি না।
স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই জরুরি ভিত্তিতে তীররক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে গুরুত্বপূর্ণ এই টার্মিনালসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙন রোধে আমরা ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, উত্তরাঞ্চলের মানুষের ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বালাসী ফেরিঘাট টার্মিনালটি ২০২১ সালে নির্মিত হয়। ঘাটটি দুই দফায় ব্যয় বাড়িয়ে প্রায় একশ ৫৭ কোটি টাকায় নির্মাণ করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই ফেরি নাব্য সংকট ও যমুনা নদীর গতি পরিবর্তনের কারণে ২০০৫ সালে বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে টার্মিনালটি অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। সেটি ভাঙনের মুখে পড়ায় অবকাঠামোটির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত