চট্টগ্রামে জ্বালানিসংকটে বাড়তি ভাড়ার চাপে নগরবাসী

Passenger Voice    |    ১১:২৪ এএম, ২০২৬-০৪-০৭


চট্টগ্রামে জ্বালানিসংকটে বাড়তি ভাড়ার চাপে নগরবাসী

চট্টগ্রাম নগরীতে জ্বালানিসংকট ও গণপরিবহন স্বল্পতায় যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। গতকাল সোমবার সকালে নগরীর বিভিন্ন মোড়ে গণপরিবহনসংকটে কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করে চালকরা ইচ্ছেমতো বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন। বিশেষ করে নারী ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি নাকাল। বাস না থাকায় অনেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা মোটরসাইকেলে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সেখানেও চালকরা কয়েক গুণ বেশি ভাড়া হাঁকছেন।

নগরের ঈদগাঁ, দেওয়ানহাট, টাইগারপাস, জিইসি ও বহদ্দারহাট এলাকায় সকালে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। দীর্ঘ সময় পর বাস এলেও তাতে উঠতে যাত্রীদের হুড়োহুড়ি করতে হয়। স্কুল শিক্ষিকা মেহজাবিন সিদ্দিকা জানান, বাসে ওঠা অসম্ভব হওয়ায় তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশা খুঁজছেন। চালক ১৫০ টাকার ভাড়া ২০০ টাকা দাবি করছেন। গ্যাসের সংকট না থাকলেও চালকরা পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন। টাইগারপাস এলাকায় এনজিওকর্মী সোলাইমান জানান, মোটরসাইকেলচালকরা সামান্য দূরত্বের জন্য ১৮০ টাকা ভাড়া চাচ্ছেন। লেগুনাতেও জ্বালানিসংকটের অজুহাতে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

চালকদের দাবি, পাম্পে জ্বালানি সংগ্রহ করতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সকালে দাঁড়ালে তেল পেতে দুপুর হয়ে যায়। এতে দিনের বড় সময় নষ্ট হওয়ায় সড়কে ট্রিপের সংখ্যা কমেছে। চালকরা বাড়তি ভাড়ার কথা অস্বীকার করলেও যাত্রীরা বলছেন ভিন্ন কথা। অনেক জায়গায় ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে চালকদের বাগবিতণ্ডা চলছে। সরকারিভাবে তেলের দাম না বাড়লেও চালকরা নিজেদের মতো ভাড়া আদায় করছেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি বেলায়েত হোসেন বেলাল জানান, পাম্প থেকে তেল পাওয়া যাচ্ছে। তবে দীর্ঘ লাইনের কারণে দিনে একটি গাড়ি দুই থেকে তিনটির বেশি ট্রিপ দিতে পারছে না। ঈদের ছুটির পর অনেক চালক এখনো ফেরেননি। এসব কারণে সড়কে গাড়ি কম। সংগঠনের পক্ষ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। কেউ অনিয়ম করলে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন নজরদারির অভাবকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে গ্রাহকরা পাম্পে তেল পাচ্ছেন না। নজরদারি না থাকায় সাধারণ মানুষ বিড়ম্বনায় পড়ছেন।’ তিনি তেল সিন্ডিকেট ঠেকাতে প্রশাসনের সমন্বিত অভিযান চালানোর আহ্বান জানান।

বিআরটিএ চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক উথোয়াইনু চৌধুরী জানান, বাড়তি ভাড়া আদায়ের সুযোগ নেই। সরকার তেলের দাম বাড়ায়নি। কোনো গাড়ির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের নজরদারির আশ্বাস থাকলেও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি কমেনি। তারা নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।

নগরীর মোড়ে মোড়ে যাত্রীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা এখন নিত্যচিত্র। গণপরিবহন স্বল্পতায় সুযোগসন্ধানীদের দৌরাত্ম্য জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলেছে। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা যাতায়াত খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অবিলম্বে এই সংকটের সমাধান ও ভাড়া নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।