শিরোনাম
Passenger Voice | ১০:৫৪ এএম, ২০২৬-০৪-০৬
তিন লাখ টন জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসেছে তিন জাহাজ। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে ‘সেলসিয়াম গ্যালাপাগোস’ ও চীন থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে ‘গ্যাস জার্নি’ নামের জাহাজ চট্টগ্রামে ভিড়েছে। এ ছাড়া ‘প্রাইমা ধরমা’ নামের ইন্দোনেশিয়ার একটি জাহাজ ইথিলিন নিয়ে এসেছে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে জাহাজগুলো। ইথিলিন শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হয়। ওই তিন জাহাজে তিন লাখ টন তলরীকৃত পণ্য রয়েছে। এ ছাড়া চলতি সপ্তাহে মোট ছয়টি জাহাজকে জ্বালানি খালাসের কার্যাদেশ দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, দেশে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সরকার স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি ও জ্বালানি তেল ক্রয় জোরদার করেছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে জ্বালানি নিয়ে একের পর এক জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে।
মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভারত, কাজাখস্তান থেকেও সরকার ডিজেল এবং ক্রুড অয়েল সংগ্রহ করছে। চলতি সপ্তাহে ছয়টি জাহাজকে তেল খালাসের কার্যাদেশ দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। জরুরি পণ্য হিসেবে বিশেষ নিরাপত্তা দিয়ে ভেড়ানো হচ্ছে এসব জাহাজকে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, জ্বালানি সরবরাহকারী জাহাজকে দ্রুত বার্থিং দেওয়া হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরে। বহির্নোঙরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই জেটিতে নিয়ে আসা হচ্ছে। দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও সরবরাহ চেইন সচল রাখার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরও জরুরি ভূমিকা রাখছে।
জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহের কাজটি করে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা বলেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসি। বিপিসি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে জি-টু-জি মেয়াদি চুক্তি ও আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এ কাজটি বড় চ্যালেঞ্জিং হলেও বিপিসি তা অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, দেশের চাহিদা মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বিকল্প উৎস কাজাখস্তান থেকেও ৫ লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা ধারাবাহিকভাবে আসবে।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক এলএনজি কার্গো স্পট মার্কেট থেকে কেনা হয়েছে এবং আগামী মাসগুলোতেও এ ধরনের ক্রয় অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি তেলও জরুরি ভিত্তিতে সরাসরি ক্রয়ের মাধ্যমে আমদানি করা হচ্ছে। স্পট মার্কেট থেকে কিনে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা হলেও এর ব্যয় তুলনামূলক বেশি। ফলে এতে সরকারের ভর্তুকির চাপ বাড়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার ওপরও চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে জ্বালানির চাহিদা পূরণে সরকার বিকল্প উৎস অনুসন্ধানের কথাও ভাবছে সরকার। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি স্বল্প মেয়াদি সমাধান হিসেবে স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি ক্রয় আপাতত অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বহুমুখী সরবরাহ উৎস গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া উচিত। অন্যথায় আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকা সম্ভব হবে না। নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমদানি বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত