শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:৩৩ এএম, ২০২৬-০৪-০৫
‘সকাল ১০টায় লাইনে দাঁড়াই মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে। এই ফিলিং স্টেশনে আসি দুপুর আড়াইটায়। তেল পেলাম ৫০০ টাকার। অথচ ঈদের আগে এর চেয়ে বেশি টাকার তেল পেয়েছিলাম। তেল পেতে এত দীর্ঘ লাইন, ভোগান্তি। তাহলে আয়-রোজগার করব কখন? দুশ্চিন্তা বাড়তে শুরু করেছে। ময়মনসিংহ থেকে পেটের তাড়নায় ঢাকায় এসে রাইডশেয়ার (মোটরসাইকেল চালাই) করি। এভাবে তেল পেতে ভোগান্তি চলতে থাকলে ঢাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে।’
শনিবার (৪ এপ্রিল) আসাদগেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে আল আমিন নামে এক বাইকচালক এভাবে ভোগান্তির কথা জানালেন।
অন্য বাইকচালক ও ব্যক্তিগত গাড়িচালকরাও একই ভোগান্তির শিকার বলে জানিয়েছেন। তারা বলেন, যতই দিন যাচ্ছে জ্বালানি তেল পেতে লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। এতে ভোগান্তি ও দুশ্চিন্তা দুই-ই বাড়ছে।
এই পাম্পে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে ৫০০ টাকার এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে ২ হাজার টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। তবে থানা থেকে দেওয়া বিশেষ স্লিপ থাকলে ভাগ্যে জুটছে বেশি তেল।
ইসমাইল নামে একজন বলেন, ‘এই দেখেন থানা থেকে স্লিপ দিয়েছে। জেনারেটর চালু রাখার জন্য ৫০ লিটার ডিজেল নিতে বলেছে। তাই নিলাম। ৫ হাজার টাকা দিলাম।’
শুধু ইসমাইলই নন, আরও অনেকে পাচ্ছেন বেশি জ্বালানি তেল। ব্যক্তিগত গাড়ির চালক সুলেমান বলেন, ‘আগে বেশি করে পেয়েছি। কিন্তু আজকে ধানমন্ডি ২৭ ছাড়িয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ২ হাজার টাকার তেল পেলাম। বেশি না দিলে কী করব? শেষ হলে আবার লাইনে আসতে হবে।’
পাম্প অপারেটর রতন বলেন, ‘ঈদের আগে তুলনামূলক বেশি তেল নিয়েছে। আমরা দিয়েছি। কিন্তু কয়েক দিন ধরে তা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ ডিপো থেকে চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না।’
এ ব্যাপারে ম্যানেজার হিমালয় বলেন, ‘ তেল না পাওয়ায় ঢাকা শহরের অধিকাংশ পাম্প বন্ধ থাকছে। আমরা ৪ থেকে ৫ হাতে গোনা ফিলিং স্টেশন ডিপো থেকে সর্বোচ্চ তেল পাচ্ছি। কিন্তু চাহিদার তুলনায় তা কম। অর্ধেকও পাচ্ছি না। তাই মাঝেমধ্যে তা বন্ধ থাকছে।’
ভোগান্তির এই চিত্র অন্য ফিলিং স্টেশনগুলোতেও দেখা গেছে। পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল না থাকায় রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকছে। তারপরও চালকরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। অন্য দিনের মতো গতকালও আসাদগেটের তালুকদার ফিলিং স্টেশন বন্ধ ছিল।
শরিফ উদ্দিনসহ অনেক চালক বলেন, ‘সকাল ১০টায় চন্দ্রিমা উদ্যানে লাইনে দাঁড়াই। এখন দুপুর আড়াইটা বাজে। কখন তেল পাব জানি না। কারণ পাম্প থেকে কিছুই জানাচ্ছে না।’
শুধু শরিফ উদ্দিনই নন, বহু চালক অপেক্ষা করছিলেন প্রচণ্ড রোদে পুড়ে। তার পরও তেল পাওয়ার নিশ্চয়তা পাচ্ছিলেন না। এর মধ্যে অনেকেই রাইডশেয়ার করেন। এটাই তাদের আয়ের পথ। কিন্তু তেল পেতে ভোগান্তি পিছু ছাড়ছে না। পাম্প বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্টরা অলস সময় কাটাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে পাম্প অপারেটর রতন আলী বলেন, ‘তেল নেই। চাহিদামতো ডিপো থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই পাম্প বন্ধ। লাইন যতই বড় হোক–আমাদের করার কিছু্ নেই।’
রাজধানীর তেজগাঁও, নীলক্ষেত, কল্যাণপুরসহ অন্য ফিলিং স্টেশনেও দেখা যায় অভিন্ন দৃশ্য। তেল না থাকায় অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকছে।
অথচ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী বলেছেন, ‘দেশে জ্বালানি তেলের মজুত পর্যাপ্ত। স্বাভাবিক সরবরাহে কোনো সংকট নেই। তাই এপ্রিল মাস পুরোপুরি নিরাপদ। মানুষের মধ্যে এখনো প্যানিক বায়িং (আতঙ্কিত হয়ে কেনা) বন্ধ হয়নি। এর ফলে সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন ঘটছে। পাম্প মাঝে মাঝে বন্ধ থাকছে।’
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত