শিরোনাম
Passenger Voice | ০৩:৪০ পিএম, ২০২৬-০৪-০২
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে বাসডুবির ঘটনায় বিপুল প্রাণহানির পরও টনক নড়েনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। নিয়ম না মানার প্রবণতা ও কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় এখনও যাত্রী বোঝাই করে ফেরিতে ওঠানামা করছে যানবাহন।
গত ২৫ মার্চ কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে যাত্রী নিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এ ঘটনায় প্রাণ হারান নারী, শিশুসহ ২৬ জন। এরপর ফেরিঘাটের অব্যস্থাপনা, চালকের অদক্ষতা, যাত্রীদের অসচেতনতা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। এ ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক থাকলেও সচেতনতার ঘাটতি রয়েই গেছে। এ কারণে নিয়ম না মেনেই আগের মতোই এখনও যাত্রীসহ ফেরিতে উঠছে বাসগুলো।
গতকাল বুধবার সরেজমিন দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় দেখা যায়, রেলিংবিহীন অরক্ষিত পন্টুন, ঢালু ও খানাখন্দে ভরা সংযোগ সড়ক, ফেরিতে উঠতে যানবাহনগুলোর প্রতিযোগিতা, কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় ফেরিঘাটে এখনও মৃত্যুফাঁদ রয়েই গেছে।
দুর্ঘটনার পর বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান মো. সলিম উল্যাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে জানিয়েছিলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তায় এখন থেকে সব যাত্রী নামিয়ে শুধু চালক যানবাহন নিয়ে ফেরিতে ওঠার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। সেই সঙ্গে পন্টুনে শক্তিশাল রেলিং স্থাপন করা হবে। এসবের কোনো কিছুই গতকাল বুধবার পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি।
ফেরিঘাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাসগুলো নিয়ম না মেনে আগের মতোই প্রতিযোগিতা করে ফেরিতে উঠছে। ঘাটে ফেরি না থাকলেও বাসসহ অন্যান্য যানবাহনগুলো সংযোগ সড়ক ও পন্টুনে দাঁড়িয়ে ফেরির জন্য অপেক্ষা করছে। বাস ভর্তি যাত্রী নিয়ে চলছে ফেরিতে ওঠানামার কাজ। কিছু কিছু সচেতন যাত্রী ফেরিঘাটে এসে বাস থেকে নেমে গেলেও বেশির ভাগ যাত্রীই বাসে বসে থাকছেন। আবার যানবাহনের চালক, হেলপার বা সুপারভাইজার যাত্রীদের নামার ব্যাপারে তাগিদ দিচ্ছেন না।
দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুনে কর্মরত বিআইডব্লিউটিসির টার্মিনাল সুপারভাইজার মো. মিরাজ হোসেন জানান, যাত্রীদের বাস থেকে নেমে ফেরিতে ওঠার ব্যাপারে তারা বললেও অনেকে নামেন না। কাউকে তো আর জোর করে নামানো সম্ভব না।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ফেরির প্রতিটি টিকিটের সঙ্গে ফেরিতে যানবাহন ওঠার সময় যাত্রীদের নেমে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া আছে। কিন্তু কেউ সেই নির্দেশনা মানতে চায় না। এ ছাড়া ঘাট এলাকায় এ-সংক্রান্ত একাধিক বিলবোর্ড টাঙানো রয়েছে। যাত্রী নামার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য শুধু কর্তৃপক্ষ নয়, সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে।
ঘাট সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে এক থেকে দেড় হাজার যানবাহন নদী পারাপার হয়। ফেরিঘাটের সংযোগ সড়কগুলো প্রায়ই মেরামত করা হয়। সেটি স্থায়ী ও টেকসই নয়। কিছু ইট, সুরকি ফেলে কোনোমতে চলাচল করার ব্যবস্থা করা হয়।
দৌলতদিয়ায় সাতটি ফেরিঘাটের মধ্যে ১, ২, ৫ ও ৬ নম্বর ঘাট দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ঈদের আগে ও পরে যানবাহন ও যাত্রী পারাপারের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ফেরিঘাট। দুর্ঘটনার পর থেকে ৩ নম্বর ফেরিঘাটটিও বন্ধ রয়েছে। ফেরিঘাটে নদীর পানির স্তর কমে যাওয়ার কারণে সংযোগ সড়ক বেশি ঢালু ও খাড়া হয়ে পড়েছে। এ কারণে যানবাহন চালকদের ফেরিতে ওঠতে ও নামতে গিয়ে বেগ পেতে হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিএ আরিচা অঞ্চলেরক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল আলম জানান, দৌলতদিয়া ঘাট নদীভাঙন কবলিত এলাকা। প্রতিবছরই ভাঙনের আশঙ্কা থাকে। এ কারণে তারা চাইলেও স্থায়ী কাজ করার সুযোগ নেই। নদীর পানি যখন বাড়ে এবং যখন কমে তখন ঘাটগুলোকে পানির সঙ্গে সমন্বয় করে পন্টুন ওঠাতে এবং নামাতে হয়। ঘাটের ঢালে কোনো সমস্যা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত