হবিগঞ্জে তেলবাহী ট্রেন দুর্ঘটনা:চলছে উদ্ধারকাজ,তদন্ত কমিটি গঠন

Passenger Voice    |    ১১:১৫ এএম, ২০২৬-০৪-০২


হবিগঞ্জে তেলবাহী ট্রেন দুর্ঘটনা:চলছে উদ্ধারকাজ,তদন্ত কমিটি গঠন

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা এলাকায় তেলবাহী ট্রেনের ৬টি কন্টেইনার লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় দ্বিতীয় দিনেও উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। এতে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেলযোগাযোগ এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ভোরে আখাউড়া থেকে পাঠানো উদ্ধারকারী ট্রেন দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। সকাল থেকে রেলওয়ের প্রকৌশল ও উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত বগি সরানো, লাইন মেরামত এবং ব্রিজ সংস্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার কারণে রেললাইন ও নিকটবর্তী ব্রিজে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হচ্ছে না।

ঘটনার বিষয়ে ঢাকা বিভাগের রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তাকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত গতি, লাইনজনিত ত্রুটি কিংবা অন্য কোনো কারণ- সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মনতলা স্টেশনের প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা মহসিন উদ্দিন বলেন, ‘তেলবাহী ট্রেন সাধারণত কম গতিতে চলে। তবে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি তুলনামূলক বেশি গতিতে চলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে চাকা স্লিপ করে লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।’

এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই ছড়িয়ে পড়া তেল সংগ্রহ করতে আশেপাশের মানুষ ভিড় করলে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে রাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার প্রভাবে সিলেট-চট্টগ্রাম ও সিলেট-ঢাকা রুটের একাধিক ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস, ঢাকাগামী উপবন ও কালনী এক্সপ্রেস সিলেট থেকেই যাত্রা বাতিল করেছে। একইভাবে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেসও যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্র বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত ওয়াগানে দুই লাখ লিটার জ্বালানি তেল ছিল। যার ৪০ শতাংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।