‘সড়কে অঘোষিত উচ্ছেদ অভিযান চালাবে ডিএমপি’

Passenger Voice    |    ০৩:৪২ পিএম, ২০২৬-০৪-০১


‘সড়কে অঘোষিত উচ্ছেদ অভিযান চালাবে ডিএমপি’

পূর্বঘোষণা দিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হলে অবৈধ দখলদারেরা আগেভাগেই ফুটপাত থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ পান; ফলে অনেক অসাধু ব্যবসায়ীকে খুঁজে পাওয়া যায় না। আবার নির্ধারিত অভিযানের কয়েক দিন পরই ফুটপাত পুনরায় দখলে চলে যায়। এই পুরোনো প্রবণতা রুখতে এবং অবৈধ ব্যবসায়ীদের ধরতে এখন থেকে ঘোষিত অভিযানের পাশাপাশি সড়কে অঘোষিত উচ্ছেদ অভিযানও চালাবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রাজধানীর মগবাজার ক্রসিং থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অবৈধ দোকান ও পার্কিং উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা শেষে ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমরান আহমেদ এ তথ্য জানান।
এসময় তার সঙ্গে ডিএমপির রমনা জোনের এসি (ট্রাফিক) রোমানা উপস্থিত ছিলেন।

ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমরান আহমেদ বলেন, ‘আমরা আমাদের অভিযানগুলো ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করে যাচ্ছি। এরপরও কিছুদিন পরপর সড়কের দুপাশে অবৈধ দোকান ও পার্কিং গড়ে উঠছে। আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন মহানগর গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। জাতীয় নির্বাচনের পর ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মহোদয় ফুটপাত ও রাস্তা হতে দোকান, শোরুম, রেস্টুরেন্ট ও ওয়ার্কশপের বর্ধিতাংশ অপসারণ প্রসঙ্গে একটি গণবিজ্ঞপ্তি দেন। তারই ধারাবাহিকতায় রাস্তা থেকে অবৈধ ব্যবসাসহ সব ধরনের কার্যক্রম সরিয়ে দিতে আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, গত ২৩ মার্চ গণবিজ্ঞপ্তিটি দেওয়ার পর আজ আমাদের প্রথম অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। পূর্ব থেকে এই অভিযানের কথা জানিয়ে দেওয়ায় অনেকেই অভিযানের আগেই তাদের অবৈধ ব্যবসা থেকে সরে গেছেন। যাঁরা আবার দোকানের বর্ধিত অংশ দিয়ে ফুটপাত দখল করেছিলেন, তারাও বর্ধিত অংশ ছেড়ে দিয়েছেন।

ডিএমপির এই স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, ‘আমরা চাই আজকের অভিযানে সড়কে যাদের অবৈধ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভেঙে দেওয়া হয়েছে, তারা যেন পুনরায় ফিরে আসার সাহস না পায়। তারা যদি পুনরায় ফুটপাতে অবৈধ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চায়, তাহলে অঘোষিত অভিযান পরিচালনা করে জরিমানাসহ তাদের বিতাড়িত করা হবে।’

আজ থেকে আগামী পাঁচ দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালিত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের মোবাইল কোর্ট ও সামারি কোর্ট একটাই। অর্থাৎ আমরা সংক্ষিপ্ত বিচারিক আদালত একই সঙ্গে পরিচালনা করি। কেউ যদি অপরাধ করে পালিয়ে যায় এবং তথ্যপ্রমাণ রেখে যায়, সেই তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আমরা অপরাধীকে খুঁজে শাস্তির আওতায় আনি।’

আজকের অভিযানের বিষয়ে এই ম্যাজিস্ট্রেট জানান, মগবাজার ক্রসিং থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ পার্কিংয়ের দায়ে ৪৯টি মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারে ভিডিও মামলা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি দোকানের বর্ধিতাংশে ফুটপাত দখল হওয়ায় ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আরও কয়েকটি দোকানকে সময় দিয়ে দ্রুত ফুটপাত দখলমুক্তের সুযোগ দেওয়া হয়। যাঁদের জরিমানা করা হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই তাদের দোষ স্বীকার করে নিয়েছেন।

এদিকে ফুটপাতের অবৈধ উচ্ছেদের সময় অনেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, তারা এত দিন ফুটপাতে ব্যবসা করতে বিভিন্ন জনকে চাঁদা দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও তাদের কোনো ধরনের নোটিশ না দিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অনেকে দোকান ট্রাকে করে পুলিশ নিয়ে গেছেন। এতে তারা ব্যবসার শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে ফেলেছেন।

প্রসঙ্গত, রাজধানীর ফুটপাত থেকে দোকানপাট সরাতে আজ থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ থেকে গতকাল মঙ্গলবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ট্রাফিক আটটি বিভাগের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে এ অভিযান শুরু হয়ে গুলশান বিভাগে গিয়ে শেষ হবে। পাঁচ দিনব্যাপী এই অভিযান পরিচালিত হবে। ঢাকা মহানগরীর সড়কের পাশে বিভিন্ন দোকান পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হবে।

এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে সরকার। তবে সেসব অভিযান বেশি দূর এগোয়নি। ফলে কয়েক দিন পর সেই পুরোনো চেহারাই ফিরে পায় ফুটপাত।