শিরোনাম
Passenger Voice | ১২:২৯ পিএম, ২০২৬-০৩-৩১
জ্বালানি তেলের পরিবহন বা সরবরাহ কার্যক্রম তদারকি করতে দেশের প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে একজন করে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। সেই অফিসাররা ফিলিং স্টেশনগুলোতে তদারকি শুরু করেছেন। তার পরও কাটছে না তেল পেতে দুরবস্থা।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর কেউ কেউ তেল পেলেও অনেকেই পাচ্ছেন না।
ফিলিং স্টেশনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিপো থেকে চাহিদামতো তেল না পাওয়ায় কয়েক ঘণ্টা পরই তা শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য পাম্প বন্ধ থাকছে। গতকাল বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আসাদগেটের তালুকদার ফিলিং স্টেশনে দেখা যায় মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের চালকদের দীর্ঘ লাইন। মিরপুর রোড থেকে ইকবাল রোড হয়ে আবার পাম্প ছুঁয়ে দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করতে দেখা যায় তাদের।
নবীন নামের একজন বাইকচালক বলেন, ‘যতই দিন যাচ্ছে অপেক্ষার সময় তত দীর্ঘ হচ্ছে। প্রথমে ২ ঘণ্টা অপেক্ষার পর তেল পেলেও আজ সাড়ে ৩ ঘণ্টা লাগল। তাও আবার ট্রাংকি ভরে তেল পেলাম না। ৫০০ টাকার তেল পেলাম। পাম্পের চারদিক ঘুরতে এভাবে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। দুরবস্থা কাটছে না। এর সমাধান হওয়া দরকার।
এ সময় প্রাইভেটকারচালক শান্ত বলেন, ‘ঘণ্টাখানেক অপেক্ষার পর ২ হাজার টাকার তেল পেলাম। আগে বেশি দিলেও আজ কম দিল। সমস্যা কোথায় জানি না। জোর করেও কিছু বলা যাচ্ছে না।’
অন্য চালকদেরও একই বক্তব্য– আর কত ভুগতে হবে তেল পেতে। এ সময় তালুকদার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার সজীব সরকার শংকর খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা ডিপো থেকে যেভাবে তেল পাচ্ছি গ্রাহকদের সেভাবেই দিচ্ছি। দুপুরের আগেও সবাইকে ইচ্ছামতো তেল দিয়েছি। কিন্তু ওপরের নির্দেশে দুপুরের পর থেকে সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কাজেই বাইকে ৫০০ টাকা ও কারে ২ হাজার টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। সরকার বেশি করে সরবরাহ করলে আমরাও বেশি করে বিক্রি করতে পারব।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ট্যাগ অফিসার এসে ডিপো থেকে সরবরাহ, মজুত ও বিক্রির পরিস্থিতি দেখছেন। তাদের সব তথ্য দেওয়া হচ্ছে।’
তবে আসাদ গেটের তালুকদার ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। পাম্প বন্ধ। তার পরও তেল পাওয়ার জন্য চালকদের দীর্ঘ লাইন। আকাশে রোদ থাকায় অনেকেই ছাতা মাথায় দিয়ে অপেক্ষা করছেন। তাদের এই লাইন জিয়া উদ্যানের সামনে চলে গেছে। তার পরও নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না তেল পাবেন কি না।
আবুল হোসেন নামে এক চালক বলেন, ‘এভাবে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছি না। কখন আসবে তাও জানি না।’
শুধু আবুল হোসেনই নন, পাম্প বন্ধ থাকার পরও সেখানে তেল কেনার অপেক্ষায় অসংখ্য চালকের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
পাম্প অপারেটররা বলেন, রাতে তেল শেষ হয়ে গেছে। ডিপোতে গাড়ি গেছে, না আসা পর্যন্ত পাম্প বন্ধ থাকবে। গাড়ি এলে তখন তেল দেওয়া হবে। রাজধানীর কল্যাণপুর, পরীবাগসহ অন্য এলাকার ফিলিং স্টেশনেও দেখা গেছে একই চিত্র। তেল থাকলে পাম্প খোলা থাকছে। চালকদের তা দেওয়া হচ্ছে। আর ফুরিয়ে গেলে পাম্প বন্ধ থাকছে। চালকরা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছেন না।
উল্লেখ্য, তেলের সংকট কাটাতে গত শুক্রবার জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের সব পেট্রল পাম্পের জন্য একজন ট্যাগ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় বিপিসি ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করবে।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা ছাড়া জেলা ও বিভাগীয় শহরে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা ও উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা তাদের অধিক্ষেত্রাধীন প্রতিটি পেট্রল পাম্পের জন্য একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ করবেন। ট্যাগ অফিসাররা জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ (বিপিসি) নির্ধারিত পদ্ধতিতে কাজ করবেন ও দৈনিক প্রতিবেদন দেবেন। সূত্র খবরের কাগজ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত