বাড়তি ভাড়ায় জিম্মি ময়মনসিংহ-ঢাকা রুটের যাত্রীরা

Passenger Voice    |    ১০:৩৯ এএম, ২০২৬-০৩-২৯


বাড়তি ভাড়ায় জিম্মি ময়মনসিংহ-ঢাকা রুটের যাত্রীরা

ময়মনসিংহ থেকে দূরপাল্লার বিভিন্ন বাসে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিয়মিত অভিযান চললেও এই নৈরাজ্য থামছে না। এতে গন্তব্যে যেতে চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ যাত্রীরা।

নগরীর পাটগুদাম, মাসকান্দা ও টাঙ্গাইল বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বাসগুলো ছেড়ে যায়। এসব টার্মিনালে ঢাকাগামী যাত্রীদের ভিড় সবচেয়ে বেশি। ইউনাইটেড পরিবহনের ভাড়া স্বাভাবিক থাকলেও অন্য বাসগুলোর চালক ও সহকারীরা ইচ্ছামতো ভাড়া নিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবাদ করলে যাত্রীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা দিয়েই গন্তব্যে যেতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের।

যাত্রীরা জানান, ঈদের পর ঢাকাগামী মানুষের চাপ বেড়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চালক ও সহকারীরা ভাড়ার উৎসব শুরু করেছেন। টার্মিনালগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। মানুষের এই অসহায়ত্বকে পুঁজি করে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া পকেটস্থ করছে পরিবহনসংশ্লিষ্টরা।

যাত্রীদের অভিযোগের সত্যতা মিলছে প্রশাসনের অভিযানেও। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা প্রতিদিন সড়ক-মহাসড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন। অভিযানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রমাণ পাওয়ায় বিভিন্ন পরিবহনকে জরিমানাও করা হচ্ছে। 

গত শুক্রবার শৌখিন পরিবহনের ওপর যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ হন। এই পরিবহনের চালকরা ২০০ টাকার ভাড়া একলাফে ৮০০ টাকা নির্ধারণ করেন। এ নিয়ে যাত্রী ও শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় বাগবিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হাসান ও রাশিক খান শুষান অভিযান চালান। তারা শৌখিন পরিবহনের দুটি বাসকে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেন। অভিযানের সময় ভাড়া কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও পরের দিন গতকাল শনিবার থেকে আবারও বাড়তি ভাড়া আদায় শুরু হয়। এদিন আবারও তিন বাসের চালককে জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই চিত্র দেখা গেছে পাটগুদাম বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলোতেও।

নগরীর বাইপাস মোড়ে বাসের অপেক্ষায় থাকা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে ইউনাইটেড ছাড়া অন্য বাসে ১৫০ থেকে ২২০ টাকায় ঢাকা যাওয়া যায়। এখন নেওয়া হচ্ছে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা। ম্যাজিস্ট্রেট যতক্ষণ থাকেন, ততক্ষণ ভাড়া ঠিক থাকে। তারা চলে গেলেই আবার আগের অবস্থা। আমরা নিরুপায় হয়েই বাড়তি ভাড়ায় যাচ্ছি।’

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাসচালক আবদুল হাই ভিন্ন দাবি করেন। তিনি জানান, পাম্পগুলোতে তেলসংকট চলছে। সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হলে শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়বেন। এই আশঙ্কায় অনেকে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন। তবে তিনি নিজে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন না বলে জানান।

জেলা মটর মালিক সমিতির সভাপতি আলমগীর মাহমুদ আলম বলেন, ‘কাউকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করতে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো চালক বা সহকারীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা সত্যতা পেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, ‘টার্মিনাল ও মহাসড়কে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাজ চলছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রমাণ পেলেই জরিমানা করা হচ্ছে। পাম্পগুলোতে জ্বালানি মজুত করে কেউ যাতে কৃত্রিমসংকট তৈরি করতে না পারে, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। জনস্বার্থে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’