শিরোনাম
Passenger Voice | ১০:৪৪ এএম, ২০২৬-০৩-২৮
জীবন কার কোথায় থমকে যাবে, কেউ জানে না। জানতেন না নাসিমা বেগমও। তাই তো ১২ বছর আগে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে ফিরলেও গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মায় বাসডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।
নাসিমা বেগম ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে ফেরা একটি আলোচিত নাম। ঘটনার তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হয়েছিলেন তিনি। তবে এবার আর ভাগ্য সহায় হলো না নাসিমা বেগমের। টানা ৭২ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে জীবন নিয়ে বেঁচে ফিরলেও এবারের দুর্ঘটনার ছয় ঘণ্টা পরই পদ্মা থেকে উদ্ধার হয় নাসিমার নিথর দেহ। সৃষ্টিকর্তার ইশারায় পদ্মায় ডুবে হেরে গেল জীবিকার যুদ্ধের ‘নিঃসঙ্গ শেরপা’ নাসিমা।
দুই স্বজনসহ নাসিমার (৪০) মৃত্যুতে তার গ্রামের বাড়িতে বিরাজ করছে শোকের ছায়া।
জানা গেছে, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ৪নং পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী নাসিমা বেগম। জীবিকার সন্ধানে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভারে ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাড়িতে যান। তবে দীর্ঘ এক মাস চেষ্টার পরও কোনো চাকরি পাননি তিনি। পরে ঈদ উপলক্ষ্যে তিনি আজমিরার শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে যান।
ঈদ শেষে গত ২৫ মার্চ বুধবার বিকেলে নাসিমা, তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ ও চার বছরের শিশু আব্দুর রহমান বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় তারা সবাই ডুবে যান।
কিছুক্ষণ পর আব্দুল আজিজ জীবিত উদ্ধার হলেও প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমাসহ বাকি তিনজনের লাশ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এদিকে স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে নিহতদের লাশ নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিলে কুষ্টিয়া এলাকায় লাশবাহী গাড়িটি আবারও দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে এতে তেমন গুরুতর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানান নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু। গতকাল শুক্রবার জুমার পর পারিবারিক কবরে তাদের দাফন করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার সময় সেখানে কর্মরত ছিলেন নাসিমা বেগম। ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে তিনি তিন দিন আটকে থাকার পর অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার হন। এরপর তিনি গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। তবে স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে তিনি আবারও ঢাকা গিয়েছিলেন। সেটাই যেন তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল।
পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছি।
পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন বলেন, নিহত নাসিমার বাড়িতে গিয়ে জেলা প্রশাসকের পক্ষে নগদ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত