শিরোনাম
Passenger Voice | ০৪:৫৪ পিএম, ২০২৬-০৩-২৭
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে গত জানুয়ারি মাস পর্যন্ত সাত মাসে বাংলাদেশকে উন্নয়ন সহযোগী বড় পাঁচ দেশ কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। এসব দেশ হলো– যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, রাশিয়া, চীন এবং ভারত। এই তুলনায় বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ বহুপক্ষীয় অংশীদারদের সাড়া কিছুটা সন্তোষজনক। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র বাদে বাকি দেশগুলাে আলোচ্য সময়ে আগের প্রতিশ্রুত অর্থ ছাড় করেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ-ইআরডির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
উন্নয়ন সহযোগী দেশ থেকে ঋণের প্রতিশ্রুতি না পাওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এনামুল হক বলেন, এর হয়তো নানান হিসাবনিকাশ আছে। তবে দেশে এখন নতুন সরকার। সামনে বাজেট রয়েছে। আগামী কয়েক মাসে ঋণ সহায়তার ক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাওয়ার আশা করা যায়। বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি আমদানিতে নতুন করে বড় পরিমাণে ঋণ নিতে হবে সরকারকে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা-আইডিএ থেকে পাওয়া প্রতিশ্রুত অর্থের পরিমাণ ২৭ কোটি ডলারের কিছু কম। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৯৫ কোটি ডলারের মতো। গত সাত মাসে সংস্থাটির ছাড় করা অর্থের পরিমাণ ৫৬ কোটি ডলার। অর্থছাড়ের তুলনায় নতুন প্রতিশ্রুতি অর্ধেকেরও কম। বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোতে সহজ শর্তে ঋণ ও অনুদান দিয়ে থাকে আইডিএ। কম সুদ অথচ দীর্ঘ মেয়াদে এই ঋণ পরিশোধের সুযোগ থাকে।
বিশ্বব্যাংকের তুলনায় এডিবির প্রতিশ্রুত ঋণের পরিমাণ বেশি। গত জুলাই থেকে জানুয়ারি সময়কালে সংস্থাটির প্রতিশ্রুতি গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। সাত মাসে এডিবির কাছ থেকে ১২৭ কোটি ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৭০ কোটি ডলার।
গত সাত মাসে এডিবির ছাড় করা অর্থের পরিমাণ ৫৪ কোটি ডলারের মতো। অর্থাৎ অর্থ ছাড়ের তুলনায় নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি দ্বিগুণের বেশি। অন্য যেসব উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এই অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে নতু্ন ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেগুলোরও প্রতিশ্রুত অর্থের পরিমাণ গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে কম। এ তালিকায় থাকা জাতিসংঘ থেকে গত সাত মাসে মাত্র দুই কোটি ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি মিলেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল তিন কোটি ডলারেরও বেশি। গত সাত মাসে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি বহুপক্ষীয় এমন উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে রয়েছে বেইজিংভিত্তিক এশীয় পরিকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক-এআইআইবি। সংস্থার ছাড় করা অর্থের পরিমাণও যথেষ্ট কম। সাত মাসে তিন কোটি ডলারেরও কম অর্থ ছাড় হয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী দেশের মধ্যে জাপান কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। অবশ্য ছাড় করেছে ১৮ কোটি ডলারের কিছু বেশি অর্থ। রাশিয়ার নতুন প্রতিশ্রুতি নেই। ছাড় করা
অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫৮ কোটি ডলার। চীনেরও নতুন প্রতিশ্রুতি নেই। ছাড় করা অর্থ ২২ কোটি ডলার। এ ছাড়া নতুন কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি না থাকা দেশের তালিকায় থাকা ভারতের ছাড় করা অর্থের পরিমাণ ছিল ১২ কোটি ডলারের কিছু কম।
যে উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে নতুন প্রতিশ্রুতির চুক্তি সই হয়েছে– ইআরডির এই উপাত্তে দেখা যায়, যৌথভাবে আমেরিকা ও জাপান গত অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ৪৫ কোটি ডলারের নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এই অর্থবছরে একই সময়ে এই দুই দেশের পক্ষ থেকে নতুন ঋণের কোনো প্রতিশ্রতি নেই। সব মিলিয়ে এই অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশ থেকে ২২৭ কোটি ডলার ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২৩৫ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের পুঞ্জীভূত বিদেশি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে সরকারি ও বেসরকারি খাতে নেওয়া মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১৩ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। আগের প্রান্তিকের তুলনায় যা ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বেশি।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত