শিরোনাম
Passenger Voice | ১০:৪৬ এএম, ২০২৬-০৩-২৫
জ্বালানি সংকট নিরসনে প্রশাসনের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও গাইবান্ধায় কাঙ্ক্ষিত তেল পাচ্ছেন না অধিকাংশ মোটরসাইকেল চালক। ফলে ক্ষোভে সড়ক অবরোধের মতো ঘটনাও ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দিনভর জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল না পেয়ে বিপাকে শত শত বাইকার। তেল না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ বাইক চালকরা মঙ্গলবার দুপুরে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ি সড়কে বিক্ষোভ ও অবরোধ করেন। এতে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিলে পরে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা।
একইদিন দুপুরের দিকে গাইবান্ধা শহরের কাদিরিয়া ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে লাইনে দাঁড়ানো গ্রাহকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।
তবে, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে গাইবান্ধা ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের পেট্রোলবাহী গাড়ি পথে রয়েছে এবং পুলিশি সহায়তা পেলে রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে তেল বিতরণ শুরু করা সম্ভব হতে পারে। এছাড়া এই গভীর রাতে গোবিন্দভোগের একটি পাম্পে মোটর বাইকারদের তেল দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এর আগে গতকাল সোমবার (২৩ মার্চ) জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পাম্প মালিকদের জরুরি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি বিতরণের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ উপস্থিত থাকবে। একই সঙ্গে হেলমেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনো মোটরসাইকেলে তেল না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের ডিবি রোডের একটি পাম্পে এবং পরে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আরেকটি পাম্পে সীমিত পরিসরে তেল সরবরাহ করা হয়।
তবে খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তে শত শত বাইকার ভিড় করেন। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই তেল পাননি, বিশেষ করে যাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল না তারা পড়েছেন বেশি বিপাকে।
প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে, যাতে অপচয় ও মজুতদারি রোধ করা যায়। কিন্তু বাস্তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অপ্রতুল থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
এসময় একজন ভুক্তভোগী চালক বলেন, “কয়েকদিন ধরে পাম্পে ঘুরেও তেল পাচ্ছি না। এতে আমাদের কাজকর্ম ও জীবিকা ব্যাহত হচ্ছে।”
তাদের অভিযোগ, জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে ‘তেল নেই’ নোটিশ ঝুলতে দেখা যায়। অন্যদিকে স্থানীয় হাট-বাজারে বোতলে করে পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে। সেসব আসে কই থেকে।
তাদের দাবি, পাম্প মালিকরাই গোপনে তাদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করছেন। ফলে বাইকাররা পাচ্ছেন।
অন্যদিকে, পাম্প মালিকদের সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, জেলায় তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক নয়। চাহিদার তুলনায় কম তেল আসায় তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন জেলায় প্রায় ৭ হাজার লিটার পেট্রোল, ৪ হাজার লিটার অকটেন এবং ৩২ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে অপ্রুতুল এবং অনিয়মিত। ফলে এই সংকট দেখা দিচ্ছে।
গতকাল প্রশাসনের উপস্থিতিতে দেওয়া দেওয়া এসএ কাদিে এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের ক্যাশ সরকার বলেন, আমরা গতকাল সাড়ে ৫টার দিকে তেল দেওয়া শুরু করি। কিন্তু ৪০০০ লিটার তেল রাত ৩টার দিকে শেষ হয়ে যাওয়ায় আজ তেল দিতে পারছি না। পাম্প বন্ধ রয়েছে।
আর রহমান পাম্পের ম্যানেজার জুয়েল মিয়া বলেন, রাত ৮টার দিকে পুলিশ ও প্রশাসনে তেল দেওয়া শুরু করি। ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তা শেষ হয়ে যায়। ভোর পর্যন্ত এসিল্যান্ড উপস্থিত ছিলেন। আজ আবরও পাম্প বন্ধ।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত