শিরোনাম
Passenger Voice | ০৪:১১ পিএম, ২০২৬-০৩-২০
আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ বিভিন্ন সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। গত ১৬ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা চালু থাকা কন্ট্রোল রুম থেকে সারাদেশের সড়ক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যাত্রীসাধারণ ১৬১০৭ হটলাইন এবং নির্ধারিত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) রাতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা নোবেল দে বিষয়টি জানিয়েছেন।
মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, এই কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর বনানীস্থ সদর কার্যালয়ে স্থাপিত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় ৯টি বিশেষ মনিটরিং টিম মাঠে কাজ করছে। তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক-সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ করিডোরের ১৯৯টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ৩৪টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৮৭টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি গুগল ম্যাপের লাইভ ডাটা ও গণমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে।
যাত্রী হয়রানি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। ২৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ১২ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন। টার্মিনালগুলোতে ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং বাসের ছাদে যাত্রী পরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যান ছাড়া ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ রেখে যাত্রীবাহী যান চলাচলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে আগাম সড়ক সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং ঢাকা মেট্রোরেল ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে-এর নির্মাণজনিত কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। গাজীপুর এলাকায় যানজট কমাতে বিআরটি ফ্লাইওভারের কাজ দ্রুত সম্পন্ন ও সড়কে আলোকায়নের ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সামলাতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) বিশেষ ঈদ সার্ভিস চালু করেছে এবং পর্যাপ্ত স্ট্যান্ডবাই বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মেট্রোরেলের ট্রিপ সংখ্যা বৃদ্ধি ও হেডওয়ে কমানোর মাধ্যমে নগর যাতায়াতে স্বস্তি আনা হয়েছে। এছাড়া ফেরিঘাট ও টোল প্লাজায় ইটিসি বুথ বাড়িয়ে দ্রুত যান পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে এ উদ্যোগের সুফল ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। পোস্তগোলা ব্রিজ এলাকায় বিকল ট্রাক দ্রুত অপসারণ করে বড় ধরনের যানজট এড়ানো হয়েছে। চন্দ্রা মোড়, কড্ডা ও কোনাবাড়ি এলাকায় ডাইভারশন রুট চালু রেখে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-এর তারাবো সড়কে ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করে চলাচলে গতি আনা হয়েছে। চান্দিনা ও দাউদকান্দি এলাকায় যানবাহনের চাপ দক্ষ ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়ামাত্রই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং যাত্রীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। আব্দুল্লাহপুর, ঢাকা-চাঁদপুর, ঢাকা-চৌদ্দগ্রাম ও ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য আসন নিশ্চিত করতে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও জনবান্ধব ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
সবমিলিয়ে, সরকারের সময়োপযোগী ও সমন্বিত উদ্যোগের ফলে এবারের ঈদযাত্রা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অধিক নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও যাত্রীবান্ধব হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত