শিরোনাম
Passenger Voice | ০৮:১৬ পিএম, ২০২৬-০৩-১৮
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কঠোর হস্তক্ষেপে অবশেষে বন্দরনগরীর বায়েজিদ এলাকায় একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়েছে।
জেপি সনেট লিমিটেড নামের ওই কারখানার মালিকপক্ষ বুধবার (১৮ মার্চ) কারখানার যন্ত্রপাতি বিক্রি করে প্রায় ১৬ লাখ টাকা শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করতে বাধ্য হয়। প্রশাসনের এই কার্যকর হস্তক্ষেপে টানা চার দিনের শ্রম অসন্তোষের অবসান ঘটেছে।
কারখানার মালিকপক্ষের প্রতিনিধি সজিব দাস বলেন, ‘আমরা বিভিন্নভাবে টাকা জোগাড় করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত যন্ত্রপাতি বিক্রি করেই শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করতে হয়েছে।’ জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে সমঝোতা হওয়ায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি জানান।
ভুক্তভোগী সিনিয়র অপারেটর মো. মনির হোসেন জানান, জেলা প্রশাসক নিজে টেলিফোনে সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তদারকি করেন। তিনি মালিকপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে প্রয়োজনে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে হলেও বকেয়া মেটাতে হবে, অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপরই মালিকপক্ষ পাওনা পরিশোধে বাধ্য হয়।
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বায়েজিদ থানার সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ না থাকলে ঈদের আগে শ্রমিকেরা তাঁদের পাওনা পেতেন না। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্লাবন কুমার বিশ্বাস জানান, প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া পরিশোধের সক্ষমতা ছিল না। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তাঁরা যন্ত্রপাতি ও মজুত মালামাল বিক্রির ব্যবস্থা করেন। গতকাল রাত ১২টার দিকে সমঝোতা হওয়ার পর আজ ভোর ৬টায় পুরো টাকা পরিশোধ করা হয়।
চট্টগ্রাম কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান বলেন, ‘আমাদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা থাকলেও জেলা প্রশাসকের সক্রিয় ভূমিকার কারণে মালিকপক্ষ বাধ্য হয়েছে।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘ঘটনাটি জানার সঙ্গেই একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে কারখানায় মোতায়েন করা হয়। ঈদের আগে তিন মাসের বেতন বকেয়া এবং শ্রমিকদের দুর্দশার কথা বিবেচনা করে যন্ত্রপাতি বিক্রি করার মতো কঠোর নির্দেশ দিতে হয়েছে।’
কয়েক মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা নিয়ে এই অসন্তোষের সূত্রপাত হয় গত ১৪ মার্চ। প্রায় ১৩০ জন শ্রমিক তিন মাসের বেতনের দাবিতে কারখানায় অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। ১৬ মার্চ জেলা প্রশাসন, মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি ও শিল্প পুলিশের উপস্থিতিতে এক বৈঠকে মালিকপক্ষ যন্ত্রপাতি বিক্রির লিখিত অঙ্গীকার করে।
তবে নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে ১৭ মার্চ রাত পর্যন্ত সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। নারী শ্রমিকসহ অনেকে কারখানায় অবস্থান চালিয়ে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৮ মার্চ ভোরে যন্ত্রপাতি বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ১৬ লাখ টাকা পরিশোধ নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসন। এর আগে মোট পাওনার মধ্যে ১ লাখ টাকা আংশিক পরিশোধ করা হয়েছিল। প্রশাসনের উপস্থিতিতেই এই অর্থ বিতরণ সম্পন্ন হয়
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত