শিরোনাম
Passenger Voice | ১২:৪৯ পিএম, ২০২৬-০৩-১৭
কম্পিউটারের দোকান থেকে অনলাইনে কাটা টিকিটের পিডিএফ কপি নিয়ে ট্রেনে ঈদযাত্রার সময় বিপাকে পড়ছেন অনেক যাত্রী। স্টেশনের প্রবেশমুখে এবং ট্রেনের ভেতরে চেকিংয়ের সময় এসব জাল টিকিট শনাক্ত করা হয়েছে। এই জাল টিকিট নিয়ে ধরা পড়ার পর অনেক যাত্রী স্বীকার করছেন, তাঁরা কম্পিউটারের দোকান থেকেই টিকিট কেটেছেন।
আজ মঙ্গলবার কমলাপুর রেলস্টেশনে সরেজমিনে ঘুরে এই চিত্র দেখা যায়। সকাল ৯টা ১০ মিনিটে রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেস ছেড়ে যাওয়ার সময় ওই ট্রেনেও এমন কয়েকজন যাত্রী শনাক্ত হন।
ঘটনাস্থলে দেখা যায়, রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের একই টিকিটের পিডিএফ কপি তিন যাত্রীর কাছে রয়েছে। ট্রেনে সিটে বসা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে তাঁরা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে যাচাই করে দেখা যায়, তিনজনের মধ্যে একজনের টিকিট বৈধ, বাকি দুজনের টিকিট জাল।
জাল টিকিটধারী যাত্রী মো. জুবায়ের হাসান বলেন, ‘কম্পিউটারের দোকান থেকে টিকিট কেটেছিলাম। এটি জাল কিনা আমি জানতাম না। এখন আবার স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে বাড়তি টাকা দিয়ে যেতে হচ্ছে।’
কমলাপুর রেলস্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত টিটিই জানান, জাল টিকিট নিয়ে যাত্রা করতে আসা যাত্রীদের শনাক্ত করে জরিমানা করা হচ্ছে এবং তাঁদের স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে দেওয়া হচ্ছে। তবে গতবারের তুলনায় এই ধরনের ঘটনা কিছুটা কমেছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে মঙ্গলবার থেকে ছুটি শুরু হওয়ায় কমলাপুর রেলস্টেশনে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। গত কয়েক দিনের তুলনায় ভিড় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। প্রায় সব ট্রেনেই উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। আসনের বাইরে দরজা ও বগির ভেতর দাঁড়িয়ে অনেক যাত্রীকে যাত্রা করতে দেখা যায়।
রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদে ওঠার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের উঠতে দেওয়া হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সকালে ছেড়ে যাওয়া নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদে কিছু যাত্রী উঠেছিলেন।
সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত কমলাপুর থেকে ১৫টি ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে নীলসাগর এক্সপ্রেস ৪৫ মিনিট দেরিতে স্টেশন ত্যাগ করে। অধিকাংশ ট্রেন নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে গেছে। স্টেশনে টিকিট ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তবু নির্ধারিত সময়ের পর স্টেশনে এসে অনেক যাত্রী ট্রেন মিস করেছেন।
এমনই এক যাত্রী হাসান মাহমুদ বুড়িমারী এক্সপ্রেসের টিকিট কেটেও নির্ধারিত সময়ের ৫ মিনিট পরে স্টেশনে এসে দেখেন, তাঁর ট্রেন ছেড়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে যাব, বুঝতে পারছি না।’
অন্যদিকে নীলা চৌধুরী নামে আরেক যাত্রী বলেন, ‘আজ অফিস ছুটি হয়েছে, তাই পরিবার নিয়ে ঈদ করতে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি। অনেক কষ্টে টিকিট ম্যানেজ করেছি। এখন শুধু ভালোভাবে ট্রেনে উঠতে পারলেই স্বস্তি।’
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত