শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:৫১ এএম, ২০২৬-০৩-১৭
বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী আজ ১৭ মার্চ। ১৯২০ সালের এই দিনে তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মহান এই নেতা। শেখ লুৎফর রহমান ও সায়েরা খাতুন দম্পতির তৃতীয় সন্তান শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারে আদরের নাম ছিল ‘খোকা’। পরবর্তীকালে এই খোকাই ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন বাঙালির প্রিয় ‘মুজিব ভাই’, ‘বঙ্গবন্ধু’।
বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এবার সরকারিভাবে কোনো আয়োজন নেই। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তার সমাধিসৌধ ও ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু প্রাঙ্গণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদনের আহ্বান করা হয়েছে। মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জাসহ দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনা ও দোয়ার আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়া দলীয় এবং সহযোগী সংগঠনের নেতারা আলোচনা সভার আয়োজন করেছেন।
বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান অনন্য। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে নিয়ে যান। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, দূরদর্শিতা এবং ত্যাগের ফলেই বাঙালি জাতি স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ অর্জন করতে সক্ষম হয়।
কিশোর বয়স থেকেই রাজনীতির প্রতি সচেতন ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। গোপালগঞ্জের মিশন স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে তৎকালীন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যোগ দেওয়ার কারণে তিনি প্রথমবারের মতো কারাবরণ করেন। পরে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়নকালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের মতো প্রখ্যাত নেতাদের সান্নিধ্যে এসে তিনি ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
১৯৪০ সালে সর্বভারতীয় মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগদানের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। ১৯৪৬ সালে তিনি কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর তিনি ঢাকায় ফিরে নতুন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। ১৯৪৮ সালে সহকর্মীদের নিয়ে ছাত্রলীগ গঠন করেন এবং ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হলে কারাগারে থাকাবস্থায় তিনি যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন।
বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। এ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় তিনি ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত হন।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জিত হলেও তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর না করে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেন। এর প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভাষণে তিনি বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
এরই ধারাবাহিকতায় ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী গণহত্যা শুরু করলে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।
স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন, সংবিধান প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন। তবে তিনি বেশি দিন দেশ গঠনের কাজ চালিয়ে যেতে পারেননি। স্বাধীনতাযুদ্ধে পরাজিত শক্তি ও ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্তের অংশ হিসেবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে কিছু বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে তিনি সপরিবারে নিহত হন। সে সময়ে বিদেশে অবস্থান করায় তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রাণে বেঁচে যান।
বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ আজও জাতিকে অনুপ্রেরণা জোগায়। তার আদর্শ ও স্বপ্নকে ধারণ করেই বাংলাদেশ এগিয়েছে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত