জ্বালানির বিকল্প উৎসের সন্ধানে সরকার

Passenger Voice    |    ১১:১০ এএম, ২০২৬-০৩-১৭


জ্বালানির বিকল্প উৎসের সন্ধানে সরকার

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্বের জ্বালানি সাপ্লাই-চেইনে মারাত্মকভাবে ব্যাঘাত ঘটছে। জ্বালানি পরিবহনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য রুট হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের প্রভাব পড়ায় বিশ্বব্যাপী তেলসংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় এবং তা রুখতে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের হুমকিতে এই রুট দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশের জ্বালানি খাতেও পড়তে শুরু করায় বিকল্প জ্বালানির উৎস খুঁজছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ইরানে হামলার ঘটনায় হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের অব্যাহত হামলার ঘটনা এবং তেল উত্তোলন কেন্দ্রগুলোতেও হামলার হুমকি পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। এ অবস্থায় সৌদি আরব ও কুয়েত তাদের সরবরাহ লাইন আপাতত ক্ষেত্রবিশেষে সীমিত বা বন্ধ করেছে। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর পুরোপুরি ভরসা করা ঠিক নয়। এ পরিস্থিতিতে রাশিয়া, ব্রুনাই, ভারত, চীনসহ অন্য জ্বালানি উৎসের সঙ্গে বাংলাদেশ আলোচনা শুরু করেছে। 

সূত্র জানায়, এই মুহূর্তে রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয়েছে। তাই বাংলাদেশ রাশিয়ার জ্বালানি আমদানির বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ কোম্পানিটিও যুক্তরাষ্ট্রের হওয়ায় জ্বালানির মূল্য নিয়ে আরও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কয়েক বছর আগে ব্রুনাই থেকে জ্বালানি আমদানির একটি প্রস্তাব ছিল। এখন সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে এই দেশটির সঙ্গেও আলোচনা শুরু করেছে ঢাকা। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্য একটি সূত্র জানায়, ইরান যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় এলএনজি চালানগুলোর বিকল্প সরবরাহ খুঁজতে হচ্ছে। বাংলাদেশ এ বিষয়ে আসিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে একটি যৌথ সহযোগিতা গড়ে তুলতে চেষ্টা করছে। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি আসিয়ান দেশের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 

মস্কোতে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্র জানায়, রাশিয়ায় উদ্বৃত্ত জ্বালানি রয়েছে। দেশটির জ্বালানি আমদানি নিয়ে কয়েকটি সরবরাহ চ্যানেলের সঙ্গে প্রাথমিক কথা হয়েছে। জ্বালানিমন্ত্রীও মস্কোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেছেন। বাংলাদেশের দিক থেকে জ্বালানি আমদানির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে রাশিয়ার পক্ষ থেকেও সরবরাহের প্রস্তুতি আছে। 

মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি আমদানির বড় অংশই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আগামী দিনগুলোতে অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি চালান সময়মতো পৌঁছাবে কি না তা নিয়ে নতুন করে সংশয় ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জ্বালানিসংকটের কারণে পেট্রলপাম্পগুলোতে উদ্বিগ্ন গ্রাহকদের ভিড় এখনো থামেনি। সেচের মৌসুমে জ্বালানি চাহিদা বাড়ছে, শিল্পে গ্যাস সরবরাহ এরইমধ্যে অনিয়মিত, আর ঈদের আগে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় পরিবারগুলোও উদ্বিগ্ন। সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে, শিল্প উৎপাদন ধীর হয়ে যেতে পারে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। 

জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘জ্বালানি সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ও চীন ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করবে। বর্তমান পরিস্থিতি উত্তরণে চীন বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সহায়তা দিতে বিশেষভাবে আগ্রহী।’ 

জ্বালানি সহায়তা চেয়ে ভারতকেও চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এ বিষয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি সহায়তার জন্য আনুষ্ঠানিক চিঠি পেয়েছি। দ্রুত বিবেচনার জন্য এটি দিল্লিতে সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।’