গাইবান্ধায় ভিজিএফের চাল না পেয়ে সড়ক অবরোধ

Passenger Voice    |    ০২:৪৫ পিএম, ২০২৬-০৩-১৬


গাইবান্ধায় ভিজিএফের চাল না পেয়ে সড়ক অবরোধ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজলার মহদীপুর ইউনিয়নে ঈদ উপলক্ষে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ দেওয়া ভিজিএফের চাল না পেয়ে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করেছেন স্লিপধারীরা (উপকারভোগী)।  এসময় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল বিক্রি ও চাল কম দেওয়ার অভিযোগ এনে তার অপসারণ দাবি করেন তারা।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর ১২টা থেকে সোয়া ১টা পর্যন্ত উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের পুটিয়াপাকুর বাজার এলাকায় অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা।

এদিকে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে চালের স্লিপ জালিয়াতির পাল্টা অভিযোগ করেছেন চেয়ারম্যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় ফুটিয়াবুর বাজারে মানববন্ধন করেন চাল বঞ্চিতরা। এরপর দুপুর ১২টা থেকে সোয়া ১টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা। এতে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের দুপাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। 

খবর পেয়ে পলাশবাড়ড়ী থানা পুলিশের একটি দল এবং পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের আমির ও কিশোরগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক ঘটনাস্থলে গিয়ে বোঝালে অবরোধ তুলে নেন তারা। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

এর আগে রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের ঢোলভাঙ্গা বালিকা স্কুলের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত শনিবার মহদীপুর ইউনিয়নে দুস্থদের মধ্যে ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বিতরণ করেন ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান আজাদুল সরকার।

এসময় সুবিধাভোগীদের অনেকে ১০ কেজির স্থলে ছয়/সাত কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন।

পরে বিকেলে চাল বিতরণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এসময় চাল নিতে আসা অনেকে স্লিপ থাকার পরও চাল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় রোববার দুপুরে জড়ো হয়ে চেয়ারম্যানের কাছে চাল দেওয়ার দাবি জানান তারা। একপর্যায়ে চাল না পেয়ে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন চাল বঞ্চিতরা।

খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল ইয়াসা রহমান তাপাদার ঘটনাস্থলে এসে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

তবে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ইউপি চেয়ারম্যান আজাদুল জানান, আমার ইউনিয়নে মোট স্লিপের বরাদ্দ ৫২০০টি। সব স্লিপের বিপরীতে গতকালই চাল বিতরণ করা হয়। কিন্তু তারপরও স্লিপ আসতে থাকে। নিরুপায় হয়ে তাৎক্ষণিক এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অতিরিক্ত চাল সংগ্রহ করে বাড়তি আরও ৭৭৪ স্লিপধারীকে চাল দেওয়া হয়। এরপরও আজ স্লিপ নিয়ে চাল নিতে আসেন বিপুল সংখ্যক চাল প্রত্যাশী। 

চেয়ারম্যানের দাবি, এগুলো তার দেওয়া স্লিপ নয়। এগুলো নকল-জাল স্লিপ। পাশাপাশি চাল কম দেওয়ার বিষয়টিও মিথ্যা। 

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল ইয়াসা রহমান তাপাদার জানান, স্লিপ থাকার পরও কেন মানুষ চাল পেলেন না, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের সরকার বলেন, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের সত্যতা পেলে অভিযুক্তের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।