শিরোনাম
Passenger Voice | ১০:৩৭ এএম, ২০২৬-০৩-১৫
ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিন গতকাল শনিবার কমলাপুর রেলস্টেশন ও সদরঘাটে ঘরমুখী মানুষের ব্যাপক ভিড় ছিল। প্রথম দিনের তুলনায় যাত্রীসংখ্যা বেশি হলেও বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ছাড়াই ট্রেন ছেড়েছে। রেলপথে যাত্রা নির্বিঘ্ন থাকলেও সড়কপথে বাসের বাড়তি ভাড়া নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে দেখা যায়, গত ৪ মার্চ যারা অগ্রিম টিকিট কেটেছিলেন, গতকাল তারাই ঢাকা ছাড়ছেন। সকাল ৯টা পর্যন্ত স্টেশন থেকে ১০টি ট্রেন ছেড়ে যায়। এর মধ্যে মহানগর প্রভাতী ৪০ মিনিট বিলম্বে ছাড়লেও বাকি সব ট্রেন নির্ধারিত সময়েই গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া আছে। একটি ট্রেনের ৩০-৪০ মিনিট দেরিকে বড় দেরি বলা যাবে না, অপারেশনাল কারণে এটুকু সময় লাগে। মূল চাপ এখনো শুরু হয়নি; ১৬ মার্চ থেকে যাত্রীসংখ্যা আরও বাড়বে।’
এদিকে যারা অনলাইনে টিকিট পাননি, তাদের ভরসা এখন স্টেশনের ‘স্ট্যান্ডিং’ টিকিট। প্রতিটি ট্রেন ছাড়ার আগে মোট আসনের ২৫ শতাংশ টিকিট কাউন্টার থেকে দেওয়া হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা নির্মাণশ্রমিক হাসান ইমাম যাবেন রংপুর।
তিনি বলেন, ‘অনলাইনে টিকিট পাইনি, তাই স্ট্যান্ডিং টিকিট কাটলাম। দাঁড়িয়ে যেতে কষ্ট হবে, কিন্তু বাড়ি যাওয়ার আনন্দের কাছে এটা কিছুই না।’
মন্ত্রীর আশ্বাস, বাস্তবে ভাড়ার নৈরাজ্য
এদিকে সড়কপথে ঈদযাত্রা তদারকিতে গতকাল রাজধানীর সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল পরিদর্শন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে আমরা কাজ করছি। পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করা হয়েছে, নির্ধারিত ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে।’
তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। অনলাইনে ও সশরীরে টিকিট বিক্রিতে দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে এসি বাসগুলোতে মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে।
অনলাইন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঢাকা-বুড়িমারী রুটে বরকত ট্রাভেলসের এসি স্লিপার বাসের গত ১০ মার্চের ১ হাজার ৫০০ টাকার ভাড়া ১৮ মার্চের ট্রিপে ধরা হয়েছে ৩ হাজার টাকা। একইভাবে ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে এভারগ্রিন ট্রান্সপোর্টের ভাড়া ১ হাজার ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করা হয়েছে।
বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে যাত্রীদের ক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, ‘ভাড়া বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। আমাকে সরাসরি জানাবেন, ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব আমার।’
বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশ বলেন, নন-এসি বাসে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই, তবে এসি বাসের ভাড়া প্রতিটি কোম্পানি স্বতন্ত্রভাবে নির্ধারণ করে, যা তদারকি করা মালিক সমিতির পক্ষে কঠিন।
জ্বালানি সরবরাহে সীমাবদ্ধতা নেই
পরিবহনগুলোতে জ্বালানি-সংকট দূর করতে আজ (শনিবার) রাত থেকেই সব সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মহাসড়কের পাম্পগুলো ঈদের আগে সাত দিন এবং পরে পাঁচ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। যানজট নিরসনে ২০৭টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট চিহ্নিত করে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।
আগামী ১৭ মার্চ থেকে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি শুরু হতে যাচ্ছে। ফলে ১৬ মার্চ বিকেল থেকেই রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালগুলোতে মানুষের ঢল নামবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সদরঘাটে উপচে পড়া ভিড়, অতিরিক্ত ভাড়া না নেওয়ায় স্বস্তি যাত্রীদের
জবি প্রতিনিধি জানান, পবিত্র ইদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকার সদরঘাটে বেড়েছে ঘরমুখী মানুষের ভিড়। দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের আরামে ঘরে ফেরার জন্য সবচেয়ে বেশি আরামদায়ক বাহন লঞ্চ। ঈদ উপলক্ষে সদরঘাটে বেড়েছে ব্যস্ততা। অতিরিক্ত ভাড়া না নেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।
গতকাল সদরঘাট এলাকায় দেখা যায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকে রাত ৯টা ১০ মিনিট পর্যন্ত ৩৭টি লঞ্চ ছেড়ে যায়। আজ রবিবার মোট লঞ্চ যাবে ৫০টি (রাত ১২.৫৫ পর্যন্ত)।
সকাল থেকেই এদিন সদরঘাট এলাকার ভিড় বাড়তে থাকে যাত্রীদের। লঞ্চের জন্য যাত্রীদের ওয়েটিং রুমে ছিল চোখে পড়ার মতো উপস্থিতি। কেউ কেউ এসে ডেকের জন্য টিকিট কেটেছেন। কেবিনের টিকিট বিক্রি শেষ হয়েছে আগেই। বুকিংয়ের তথ্য দিলেই প্রয়োজনীয় কেবিনের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন লঞ্চের কর্মীরা। সবচেয়ে বেশি ভিড় ডেকে। যাত্রীরা নিজেদের সুবিধামতো পাটি ও চাদর বিছিয়ে জায়গা নিয়েছেন।
এদিন সদরঘাট থেকে দক্ষিণাঞ্চলের ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, ভান্ডারিয়া, আমতলী, ভোলা, মনপুরা, ভাসানচর, চাঁদপুর, ড্যামুডা, বেতুয়াসহ নানা রোডে লঞ্চ ছেড়ে গেছে।
যাত্রীদের কারণে সদরঘাটে বেড়েছে হাঁকডাক। কুলি ও অস্থায়ী খাবারের দোকান ছিল চোখে পড়ার মতো। টার্মিনালে লক্ষ করা গেছে পুলিশের টহল টিমের উপস্থিতি। সঙ্গে ছিলেন বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
প্রিন্স আওলাদ লঞ্চের টিকিট বিক্রেতা আরমান কবির বলেন, ‘আজ অনেক যাত্রীর চাপ। এই সপ্তাহটাই চাপ থাকবে। যাত্রীতে পূর্ণ হয়ে গেলে আমরা সময়ের আগেও লঞ্চ ছেড়ে দিই।’
পারাবত ১৮ লঞ্চের স্টাফ রাতুল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের বেশির ভাগ কেবিন বুক আগেই হয়। এখন ডেকের যাত্রীরা আসেন বেশি। কেবিন খুব বেশি থাকে না। যারা আগে বুকিং দেন তারা পান।’
পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে বরিশাল যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বাইক নিয়ে যাচ্ছি বলে লঞ্চে উঠেছি। না হলে বাসেই যেতাম।’
ফ্যামিলি নিয়ে চাঁদপুর যাচ্ছেন আরিফ হুসাইন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ফ্যামিলির সবাই লঞ্চেই যাতায়াত করি। এখন অতিরিক্ত যাত্রী তোলা হচ্ছে। প্রশাসন এসব খেয়াল রাখলে আমাদের জন্য ভালো হয়।’
অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে কি না–এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘না সরকার-নির্ধারিত ভাড়াই তারা নিচ্ছেন।’
এ বিষয়ে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের ট্রাফিক অ্যাসিস্ট্যান্ট গাজী আবুল কালাম বলেন, ‘আজ (শনিবার) অনেক যাত্রীর চাপ রয়েছে। আজ ৫০টির মতো লঞ্চ ছেড়ে যাবে। এখন পর্যন্ত ৩২টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে। যাত্রীদের সেবা দিতে সার্বক্ষণিক মাঠে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রয়েছেন।’
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত