ঈদযাত্রা: পরিবার যাচ্ছে গ্রামে, ছুটির অপেক্ষায় চাকরিজীবী

Passenger Voice    |    ১২:৩৩ পিএম, ২০২৬-০৩-১৩


ঈদযাত্রা: পরিবার যাচ্ছে গ্রামে, ছুটির অপেক্ষায় চাকরিজীবী

আর কয়েকদিন পরই ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদুল ফিতর। আর এই ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে এরই মধ্যে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন নগরবাসী। ফলে ব্যস্ততা বেড়েছে রাজধানীর বাস কাউন্টারগুলোতে। ঘরমুখো মানুষের পদচারণায় মুখর দূরপাল্লার বাস টার্মিনালগুলো।

ঈদযাত্রার প্রথমদিন শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে রাজধানীর দূরপাল্লার বাস টার্মিনাল গাবতলী ও কল্যাণপুর কাউন্টার ঘুরে সাধারণ মানুষের ঢাকা ছাড়ার এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এদিন সকাল থেকেই কল্যাণপুর থাকে গাবতলীমুখী যানবাহনের চাপ অনেকটা বেশি। ফলে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন। সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন পয়েন্টে ও মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

গাবতলী টার্মিনাল ও কল্যাণপুর কাউন্টার ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রীরা এসে ভিড় জমাচ্ছেন। টিকিট সংগ্রহে কাউন্টার থেকে কাউন্টারে ঘুরছেন তারা। কাউন্টারে দায়িত্বরত পরিবহন শ্রমিকরা হাঁক ছেড়ে যাত্রীদের ডাকছেন। ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কাউন্টার মাস্টাররাও।

সোহাগ পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার মেহেদী হাসান বলেন, যাত্রীচাপ মোটামুটি ভালো। অনেকেই ঈদের ছুটিতে বাড়িতে যাওয়া শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, এখন অনলাইনের যুগ, তাই কাউন্টারে এসে যাত্রীর উপস্থিতি সেভাবে চোখে পড়বে না। অনলাইনে টিকিট কেটে নির্ধারিত সময়ে যাত্রীরা কাউন্টারে আসছেন। সব গাড়িতেই মোটামুটি চাপ আছে। কোনো গাড়ি ফাঁকা যাচ্ছে না। সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত আমাদের দুইটা গাড়ি ছেড়ে গেছে।

সৌহার্দ্য পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার মো. আরিফ বলেন, যাত্রী অনেকটাই বেড়েছে। অফিস এখনো ছুটি হয়নি, তবে বেশিরভাগ চাকরিজীবী তাদের পরিবার গ্রামে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। সকাল থেকে যে গাড়িগুলো ঢাকা ছেড়েছে সেগুলোতে কোনো আসন খালি যায়নি।

হানিফ এন্টারপ্রাইজ গাড়ির কাউন্টার মাস্টার জুয়েল বলেন, যাত্রীর চাপ আছে। বেশিরভাগ গাড়িই ভরে যাচ্ছে। সকাল থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত আমাদের চারটা গাড়ি ছেড়ে গেছে। কোনো গাড়ি ফাঁকা যায়নি।

তিনি বলেন, দেখা যাচ্ছে একটা পরিবারে চারজন সদস্য। একজন চাকরি করেন। এখন সবাই যদি ওই একজনের অফিস ছুটির অপেক্ষায় থাকেন তাহলে ঝামেলায় পড়বেন। এ কারণে চাকরিজীবী বাদে পরিবারের অন্য সদস্যদের গ্রামে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।

যশোরের যাত্রী হামিম। তিনি বলেন, ঢাকায় পড়াশোনা করি। গতকাল কলেজ বন্ধ হয়ে গেছে। ঈদের ছুটি পড়েছে তাই আজই বাড়ি চলে যাচ্ছি।

রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন হুমায়ুন শেখ। পরিবারের দুই সদস্য নিয়ে গাবতলী বাস টার্মিনালে এসেছেন তিনি।

হুমায়ুন বলেন, এখনো কয়েকদিন অফিস চলবে তারপর অফিস ছুটি ঈদের হবে। আর ঈদের ছুটি হলে গাড়ির আসন পাওয়া যায় না। তাই আগেই পরিবার বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি। অফিস ছুটি হলে আমি যাবো। তখন আসন না পেয়ে দাঁড়িয়ে গেলেও কষ্ট হবে না।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০ বা ২১ মার্চ দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপন হবে। চলতি বছর রমজান ৩০ দিন ধরে ঈদের ছুটি নির্ধারণ করেছে সরকার। রমজানের ৩০ দিন পূর্ণ হলে ঈদ হবে ২১ মার্চ।