পাথরঘাটায় তেল সংকটে সমুদ্রে যেতে পারছেন না জেলেরা

Passenger Voice    |    ১০:৪৮ এএম, ২০২৬-০৩-১৩


পাথরঘাটায় তেল সংকটে সমুদ্রে যেতে পারছেন না জেলেরা

বরগুনার পাথরঘাটা উপকূলে হঠাৎ জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেওয়ায় গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে যেতে পারছেন না কয়েক হাজার জেলে। এতে ঈদের ঠিক আগে বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন জেলে, ট্রলার মালিক ও আড়তদাররা। স্থানীয় জেলে ও সচেতন মহলের দাবি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরান, ইসরাইল ও আমেরিকার উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার খবর প্রকাশের পর থেকেই এলাকায় জ্বালানি তেল নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। 

তবে অনেকের মতে, দেশে তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি দামে বিক্রির আশায় তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে।

এদিকে ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। প্রতি বছর ঈদের আগে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার করে সেই আয়ে পরিবার নিয়ে ঈদ উদযাপন করেন উপকূলের জেলেরা। কিন্তু এ বছর জ্বালানি তেলের অভাবে তাদের সেই আশা ভেঙে যেতে বসেছে।

উপকূলের জেলেদের দাবি, দ্রুত জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট দূর করে বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে ঈদের আগ মুহূর্তে হাজারো জেলে পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়বে।

স্থানীয় জেলে মো. জাকির বিশ্বাস বলেন, দোকানগুলোতে তেল মজুত আছে। কিন্তু আমরা কিনতে চাইলে বলে তেল নেই। তাই সাগরে যেতে পারছি না। ভেবেছিলাম ঈদের আগে মাছ ধরে ভালো টাকা পাব এবং পরিবার নিয়ে ঈদ করব। কিন্তু মনে হচ্ছে এ বছর আর সেই আশা পূরণ হবে না।

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, পাথরঘাটার বিভিন্ন জ্বালানি তেলের দোকানে পর্যাপ্ত তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাড়তি দামের আশায় তেল গোপনে মজুত করে রেখেছে। এর ফলে সমুদ্রগামী ট্রলারগুলো প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেয়ে ঘাটে বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অনেক ট্রলার ইতোমধ্যে সমুদ্রে যাওয়ার জন্য বাজার-সদাই ও অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ঘাটে অপেক্ষা করছে। কিন্তু জ্বালানি তেল না পাওয়ায় তারা গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে যেতে পারছে না। এতে জেলে, আড়তদার ও ট্রলার মালিকদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার জানান, যদি কোনো ব্যবসায়ী জ্বালানি তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তবে তাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।