শিরোনাম
Passenger Voice | ১২:৫৬ পিএম, ২০২৬-০৩-১০
ডিজেল সরবরাহ কমানোর প্রভাব পড়েছে আমদানি পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত লাইটার জাহাজ চলাচলে। আবার রপ্তানি পণ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত বেসরকারি ডিপোতেও এই প্রভাব পড়ার শঙ্কার কথা জানিয়েছেন ডিপো পরিচালনাকারীরা।
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ভোগ্যপণ্য, শিল্পের কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্য স্থানান্তর করে লাইটার জাহাজে নেওয়া হয়। এরপর নদীপথে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের নানা ঘাটে নিয়ে খালাস করা হয়। এ কাজে এখন ১ হাজার ৫০টি লাইটার জাহাজ রয়েছে। ডিজেল–সংকটে নদীপথে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়া শুরু হয়েছে।
লাইটার জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনাকারী সংস্থা বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের (বিডব্লিউটিসিসি) আহ্বায়ক সফিক আহমেদ গতকাল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়ে জানান, জ্বালানি–সংকটের কারণে অনেক লাইটার জাহাজ কর্ণফুলীতে পণ্য নিয়ে ভাসছে, গন্তব্যে যেতে পারছে না। বন্দর থেকে নদীপথে পণ্য সরবরাহ ঠিক রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।
জানতে চাইলে বিডব্লিউটিসিসির মুখপাত্র পারভেজ আহমেদ গতকাল সোমবার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার থেকে লাইটার জাহাজে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে সংকট শুরু হয়। প্রতিদিন পণ্য পরিবহনের জন্য গড়ে ৭০-৮০টির মতো জাহাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়। একেকটি জাহাজ চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাওয়ার জন্য তিন হাজার লিটার ডিজেল দরকার। তবে অনেকে সরবরাহ না পেয়ে গন্তব্যে যেতে পারছে না।’
একই অবস্থা বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলোয়। চট্টগ্রামের ২১টি ডিপোয় রপ্তানি পণ্য ব্যবস্থাপনা হয়। এরপর কনটেইনারে ভরে বন্দর দিয়ে জাহাজে তুলে দেওয়া হয়। আবার কনটেইনারে আমদানি পণ্যও বন্দর থেকে এনে ডিপো থেকে খালাস দেওয়া হয়। এসব কাজের জন্য এক হাজার কনটেইনার পরিবহনকারী গাড়ি এবং ২৫০ যন্ত্রপাতি রয়েছে, যেগুলোর জন্য দরকার ডিজেল। গত রোববার পাঁচটি ডিপো ডিজেল চেয়েও পায়নি।
চিঠিতে বলা হয়, ডিপোগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দিনে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন। তবে সম্প্রতি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল লিমিটেড—এই তিনটি কোম্পানি ডিপোগুলোকে চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এতে ডিপোগুলো জ্বালানি–সংকটে পড়বে।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খলিলুর রহমান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল সরবরাহের কথা জানান। চিঠিতে বলা হয়, ডিপোগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দিনে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন। তবে সম্প্রতি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল লিমিটেড—এই তিনটি কোম্পানি ডিপোগুলোকে চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এতে ডিপোগুলো জ্বালানি–সংকটে পড়বে।
জানতে চাইলে পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান গতকাল রাতে বলেন, তেল সরবরাহ চলছে। তবে সরকার বলেছে, ২৫ শতাংশ কমিয়ে দিতে। এ কারণে কম পরিমাণে দেওয়া হচ্ছে। তবে একেবারে তেল সরবরাহ বন্ধ করা হয়নি। গতকাল ডিজেল নিয়ে একটি জাহাজ দেশে এসেছে। এ সপ্তাহেই আরও কয়েকটি জাহাজ দেশে আসার কথা রয়েছে। ফলে তেল সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। সূত্র প্রথম আলো
প.ভ.ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত