তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানে ছিল‘গুরুতর যান্ত্রিক ত্রুটি’

Passenger Voice    |    ০২:০০ পিএম, ২০২৬-০৩-০৮


তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানে ছিল‘গুরুতর যান্ত্রিক ত্রুটি’

বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান) তারেক রহমানকে বহনকারী সেই উড়োজাহাজে ‘গুরুতর যান্ত্রিক ত্রুটি’ ছিল বলে তদন্ত প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে। 

এতে বলা হয়েছে, এমন ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও এই উড়োজাহাজটি দিয়েই গত ২৫ ডিসেম্বর ভিভিআইপি ফ্লাইটে তারেক রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদেরকে বহন করা হয়েছিল।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উপপ্রধান প্রকৌশলী মো. মনসুরুল আলমের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এই প্রতিবেদনটি সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দিয়েছে। এই তদন্তে লন্ডন থেকে ঢাকার ফ্লাইটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭৮৭-৯ মডেলের একটি উড়োজাহাজে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি এবং রক্ষণাবেক্ষণে ভয়াবহ অনিয়মের তথ্য উন্মোচিত হয়েছে বলে জানা গেছে। 

গতকাল শনিবার এই তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে ‘অফিশিয়াল’ বক্তব্য জানতে বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। তবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি একাধিক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, ওই প্রতিবেদনে গত বছরের ৯ ও ১৭ ডিসেম্বর উড়োজাহাজটির রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে একাধিক অনিয়ম করা হয়েছে। অন্যদিকে ১০ ডিসেম্বরের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যে শেষ করা হয়, যা বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজের জন্য নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অস্বাভাবিক কম। পাশাপাশি উড়োজাহাজটির ত্রুটি নির্ণয় বা কার্যকারিতা পরীক্ষার সঠিক কোনো রেকর্ডও তদন্ত কমিটির কাছে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ১৫ দিনের ব্যবধানে একই যান্ত্রিক ত্রুটি তিনবার দেখা দিলেও সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। 

এমনকি গত ২১ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে সিলেটগামী বিজি-২০২ ফ্লাইটে উড়োজাহাজটি যখন মাঝ আকাশে ছিল, তখন আবারও এর ‘ভিএফএসজি’ বিকল হয়ে যায়। এ ধরনের ত্রুটির কারণে উড়োজাহাজটিতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা গিয়ারবক্সের অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা ছিল বলে মনে করে তদন্ত কমিটি। এমন উদাসীনতার জন্য বিমানের দায়িত্বশীল দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্যা.ভ.ম