জবি সাংবাদিক সমিতির নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ আহত ১০, স্থগিত নির্বাচন

Passenger Voice    |    ১০:১৪ এএম, ২০২৬-০৩-০৬


জবি সাংবাদিক সমিতির নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ আহত ১০, স্থগিত নির্বাচন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতি নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষে জড়িয়েছে সংগঠনের দুই গ্রুপের সদস্যরা। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলের একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন শাখা ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবির। সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানা যায়। এ ঘটনায় স্থগিত করা হয়েছে নির্বাচন। 

গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) অবকাশ ভবনের ৩য় তলায় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের ঘটনায় বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) জবি প্রতিনিধি মাহামুদুর রহমান নাজিদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের জবি প্রতিনিধি মাহির মিলন, প্রথম আলোর জবি প্রতিনিধি শাহাদাত হোসেন, কালের কন্ঠের জবি প্রতিনিধি  জুনায়েদ শেখ, যুগান্তরের জবি প্রতিনিধি সাকেরুল ইসলাম, সময়ের আলোর জবি প্রতিনিধি মুশফিকুর রহমান ইমনসহ শাখা ছাত্রঅধিকার পরিষদের সভাপতি একেএম রাকিব, শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক ও জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফও আহত হয়েছেন বলে তারা দাবি করেছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক সাকেরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজকে সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের দিন ধার্য ছিল। এর মধ্যে বেলা পৌনে একটার দিকে ছাত্রদলের সুপার ফাইভের নেতৃত্বে সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে প্রবেশ করে হামলা চালায় কিছু বহিরাগত। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্ব থেকে ছাত্রলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বারবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সহ প্রশাসনের উপর চাপ দিয়ে আসছিল, যাতে সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনি কার্যক্রম বন্ধ করা হয়।

সাংবাদিকদের সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সংগঠনটি। শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেল এ বিষয়ে বলেন, ‘৫ই আগস্টের পর আমরা একটা নিরপেক্ষ দেশ পেয়েছি, তারই ধারাবাহিকতায় আমরা চাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রতিটি সাংবাদিক সংগঠন নিরপেক্ষতা বজায় রেখেই চলবে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করতে পাই একটা গোষ্ঠী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি কে তাদের পক্ষে নিতে নিয়মবহির্ভূত ভাবে কারো সাথে কোন আলোচনা না করে গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করে। আমরা চাই সাংবাদিকদের সংগঠন সাংবাদিকরাই নেতৃত্ব দিবে, এখানে আমাদের কোন দায়িত্ব নেই। তবে আমরা চাই এটা যাতে কারো পক্ষপাতিত্ব না হয় এজন্য আমরা ভিসি স্যার, প্রক্টর স্যার নির্বাচন কমিশনারকে বলেছি তারা যেন সবার সাথে আলোচনা করে তারপর একটা নিরপেক্ষ তফসিল ঘোষণা করে।’

এ দিকে শাখা ছাত্রশিবির সাধারণ সম্পাদক ও জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ এ বিষয়ে বলেন, ‘জকসুর একটি পূর্বনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন ছিলো। সংবাদ সম্মেলন শেষে জকসুর অফিসে থাকা অবস্থায় অবকাশ ভবনের উপরতলা থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে সেখানে গিয়ে মারামারির ঘটনা দেখতে পাই। জকসুর প্রতিনিধি হিসেবে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি, একেবারে শেষ সময় আমার বাম হাতে আঘাত লাগে।’

তিনি আরোও বলেন, ‘জকসুর জিএস বা শিবিরের নেতৃত্ব হামলার যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা একেবারেই মিথ্যা ও দায় দেয়ার সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ। জকসুর জিএসের হাতে লাঠি এরকম অভিযোগও আসছে, যা পরিপূর্ণ ভিত্তিহীন। এই ঘটনার সব ভিডিও ফুটেজ সবার কাছেই রয়েছে। সেগুলো দেখলেই ঘটনা স্পষ্ট হবে। এসব অভিযোগের বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে সত্যতা তুলে ধরা হবে।’

সংঘর্ষের বিষয়ে জবি ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রায়হান হাসান রাব্বি বলেন, ‘পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আমরা বৃত্তির জন্য আন্দোলন করছিলাম। হঠাৎ করে সাংবাদিক সমিতির দুই গ্রুপের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আমরা বেশ কিছুক্ষণ পর ভিসি স্যারের কাছে গিয়ে এ বিষয়ে অবগত করি এবং স্যারের মধ্যস্থতায় এটি সমাধানের অনুরোধ করি। যেহেতু  আমরা অবস্থান কর্মসূচি করছিলাম তাই সরাসরি সেখানে গেলে আমাদের বিরুদ্ধে আঙুল তুলে আন্দোলন ভিন্ন দিকে ত্বরান্বিত করতে পারে তাই আমরা যাইনি। এরপর প্রক্টর স্যার সেখানে যাওয়ার পর একেএম রাকিব সেখানে যায় এবং সবাইকে নামিয়ে আনে।’

এদিকে ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন জাতীয় ছাত্রশক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ বলেন, ‘আমরা সবসময় ক্যাম্পাসে স্থিতিশীল পরিবেশ চাই। সমাজিক ও সাংবাদিক সংগঠন গুলো রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে এই প্রত্যাশা করি।’

এ বিষয়ে সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ইমরান হুসাইন বলেন, গত ২ মার্চ সাংবাদিক সমিতির ২০২৬ সেশনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। নিয়মতান্ত্রিক উপায়েই আজ মনোনয়ন সংগ্রহের দিন ছিল। কিন্তু গতকাল রাত থেকেই ছাত্রদলের বিভিন্ন মহল থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। আজ স্বাভাবিকভাবে নির্বাচনের কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছিল। এরই মধ্যে ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মীরা এসে সমিতিতে অবস্থানরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। বর্তমানে আমাদের ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে।

‎উল্লেখ্য, সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় গত ২ মার্চ। তফসিল অনুযায়ী আজ মনোনয়ন সংগ্রহ ও প্রত্যাহার এবং আগামী ৮ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

প্যা/ভ/ম