রাষ্ট্রের মালিক জনগণ,আমরা  তাদের সেবক:তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

Passenger Voice    |    ১০:৫০ এএম, ২০২৬-০৩-০৫


রাষ্ট্রের মালিক জনগণ,আমরা  তাদের সেবক:তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা স্থায়ী সরকার, আমরা নির্বাচিত হয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করি। রাষ্ট্রের মালিক জনগণ, আমরা কেবল তাদের সেবক। তিনি অতীত সরকারের  ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক রাষ্ট্রব্যবস্থা শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

আজ বুধবার (০৪ মার্চ) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন দপ্তরের  কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের ম্যান্ডেটের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করা। তিনি উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সরকার পরিচালনা করতে হবে। নির্বাহী বিভাগকে দলীয়করণ বা অপব্যবহার থেকে বিরত রেখে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি সরকারের রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের ৪ কোটি ১০ লক্ষ পরিবারের মধ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কার্ড বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। ঈদের আগেই এ কার্যক্রমের দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ইউনিটগুলোকে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে কৃষক কার্ড কর্মসূচির কথাও তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষিযন্ত্র, কৃষি ঋণসহ বিভিন্ন সেবা সরাসরি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগী ও দুর্নীতির সুযোগ না থাকে। কৃষি ঋণের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ২৫ শতাংশ সুদ মওকুফের সিদ্ধান্তও ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য ভাতা প্রদান কর্মসূচিও চালু হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রেও কার্ডভিত্তিক স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে।

বিভাগীয় কমিশনার ড. মো: জিয়াউদ্দীন এর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত  ছিলেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক  মোঃ আবদুল জলিল ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং চট্টগ্রাম জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে  বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

 এর আগে মন্ত্রী চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। 

বক্তৃতায় তথ্যমন্ত্রী বলেন- রাষ্ট্রের সেবক হিসেবে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। কাজেই জনগনকে ক্ষমতায়িত করতে আমরা সেবকই থাকতে চাই। তিনি বলেন- শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উন্নয়নের জন্যই চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের নামফলক স্থাপন করেছিলেন, কিন্তু দীর্ঘদিন সেটি গোপন করে রাখা হয়েছিলো। আবার সে নামফলক পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে প্রেসক্লাবকে এগিয়ে নিতে হবে।

ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে আবু সুফিয়ান এম পি, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি হাসান হাফিজ, বিএফইউজে'র মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, সাংবাদিক মোঃ শাহনেওয়াজ, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, মিয়া মোহাম্মদ আরিফ প্রমূখ বক্তৃতা করেন।

গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আবদুল জলিল, চট্টগ্রাম পিআইডির উপপ্রধান তথ্য অফিসার মোঃ সাঈদ হাসানসহ বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক এবং বিটিভির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।।