শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:২৫ এএম, ২০২৬-০৩-০৪
পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়ে বিকল্প যত পদক্ষেপ আছে, তা সব কাজে লাগাতে হবে। পাশাপাশি নিয়মের মধ্যে গ্রাহকদের বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নিতে হবে।
পাঁচ ব্যাংকের নিয়োগ দেওয়া প্রশাসক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এমন বার্তা দিয়েছেন নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে গভর্নর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে যেসব সংস্কারকাজ চালু আছে, তা অব্যাহত থাকবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন গভর্নর। পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও একীভূতকরণের যে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে বলে জানান গভর্নর।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নতুন গভর্নরকে একীভূত করার কারণ ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করা হয়। এরপর গভর্নর জানান, সংস্কার চলমান থাকবে। আমানত বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে। যেসব ঋণখেলাপি হয়ে পড়েছে, তা আদায়ে বিকল্প যত উদ্যোগ আছে, তার সবই গ্রহণ করতে হবে। ব্যাংকের ঋণ আছে এমন বন্ধ কারখানা নিয়মের মধ্যে চালুর উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে কর্মসংস্থান বাড়ে। এসব কারখানা যেন উৎপাদনে আসতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিদেশি বকেয়া থাকলে তা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া সার্বিকভাবে ব্যবসা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর ব্যাংকটির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ অব্যাহত থাকবে।
এর আগে গত রবিবার ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) প্রতিনিধিরা সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে একই রকম বার্তা দেন গভর্নর। সেখানে তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে চলমান সব সংস্কার অব্যাহত থাকবে। নতুন গভর্নর কোনো রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। সেই সঙ্গে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থানের জন্য নীতি-সহায়তা দেওয়া হবে। আর এ জন্য রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বন্ধ হওয়া কারখানা সচল রাখতে ব্যাংকগুলোকে নীতি-সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে দুর্বল পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। সেই সময় এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী–এই পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়েছে। নতুন ব্যাংকটি মোট ৩৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। আমানতকারীদের মধ্যে বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল দেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর আমানত বিমা তহবিল থেকে দুই লাখ টাকা করে মোট ১২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর মতিঝিলের সেনাকল্যাণ ভবনে নতুন ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় খোলা হলেও ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত এমডি ও এক্সিম ব্যাংকের প্রশাসক মো. শওকাতুল আলম এক্সিম ব্যাংকেই অফিস করছেন।
প্য.ভ.ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত