শিরোনাম
Passenger Voice | ০১:৪৫ পিএম, ২০২৬-০৩-০২
সৌদি আরবের জেদ্দায় ৮ বছর ধরে একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দিদারুল হক। তিন মাস আগে ছুটিতে দেশে আসেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তার জেদ্দায় ফেরার কথা ছিল। আর আগামীকাল মঙ্গলবার (৩ মার্চ) থেকে কর্মস্থলে যোগদান করার কথা। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ-সংঘাতের কারণে ফ্লাইট বাতিল করে এমিরেটস এয়ারলাইন্স। ফলে দিশেহারা হয়ে বিমানবন্দর থেকে ফিরে যান দিদারুল হক।
আজ সোমবার (২ মার্চ) বেলা ১১টায় আবার শাহজালাল বিমানবন্দরে যান দিদারুল হক। এ সময় ক্যানোপিতে দাঁড়িয়ে বড় মনিটরে দিনের ফ্লাইট শিডিউল দেখছিলেন তিনি। তার চোখে মুখে হতাশার ছাপ।
আলাপকালে দিদারুল হক বলেন, তিন মাস আগে ছুটিতে দেশে আসার সময় কোম্পানি এমিরেটস এয়ারলাইন্সে ফ্রিতে টিকেট কেটে দিয়েছিল। সেই টিকিটের ২৮ ফেব্রুয়ারি জেদ্দায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ওই দিন ফ্লাইট বাতিল করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এ ফ্লাইট কবে রিশিডিউল করা হবে তার কিছু জানায়নি সংশ্লিষ্টরা। অথচ আগামীকাল মঙ্গলবার আমার কর্মস্থলে যোগদানের কথা। সময় মতো কর্মস্থলে যোগ দিতে না পারলে চাকরিতে সমস্যা হবে।
তিনি বলেন, কোনো উপায় না পেয়ে গতকাল রোববার (১ মার্চ) বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস বাংলায় ৫৫ হাজার টাকায় জেদ্দার একটা টিকিট কেটেছি। এ ফ্লাইট আজ বিকাল চারটায় ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ইনশাআল্লাহ সময়মতো পৌঁছাতে পারবো।
শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ-সংঘাতের কারণে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৭০টি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এ কারণে প্রায় ২০ হাজার যাত্রী নির্ধারিত সময় তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি। কবে নাগাদ তাদের এই ফ্লাইট রিশিডিউল করা হবে, তার সুনিদৃষ্ট কোনো তথ্য নেই। সবকিছু নির্ভর করছে যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ওপর। যদিও গতকাল থেকে সীমিত পরিসরে সৌদি আরবের জেদ্দা-মদিনায় ফ্লাইট চালু হয়েছে।
রাজবাড়ীর মো. আয়নাল মিয়া। আজ দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে তার সৌদি আরবের দাম্মামে ফ্লাইট ছিল। এ জন্য নির্ধারিত সময়ের আগেই তথা সকাল সাড়ে ১০টায় বিমানবন্দরের ভিতরে ঢুকেন তিনি। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন আজ তার ফ্লাইট ছাড়বে না। এ ফ্লাইট কবে রিশিডিউল করা হবে তাও তাকে কিছু জানানো হয়নি।
বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে সামনেই ঘোরাঘুরি করছিলেন তিনি। কি করবেন কোনো দিশা খুঁজে পাচ্ছিলেন না তিনি। জানতে চাইলে আয়নাল মিয়া বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আগেই সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।
এজেন্সির লোকজন বলছেন, ফ্রাই ডে নির্যাতিত সময়ের আগে এয়ারপোর্টে থাকতে। সে অনুযায়ী এয়ারপোর্টে এসে দেখি ফ্লাইট হবে না। এখন বাড়ি যাবো না ঢাকায় থাকবো তা কেন বুঝে উঠতে পারছি না। তিনি বলেন, সৌদি আরবে প্রায় নয় বছর ধরে চাকরি করছি। কখনও এরকম পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়নি। পাঁচ মাস আগে দেশে আসছি। এখন ছুটির মেয়াদ আছে আর মাত্র ১০ দিন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজে যোগদান করতে না পারলে সমস্যা হবে।
১১ বছর ধরে সৌদিতে থাকেন রাসেল মিয়া। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কাতার এয়ারওয়েজ দাম্মামে ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু ঐদিন যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়। পরে তারা গ্রামে চলে যান। আজ সকালে আবার শাহজালাল বিমানবন্দরে আসেন।
রাসেল মিয়ার সঙ্গে এসেছেন তার বাবা আলাউদ্দিন। তিনি বলেন, আজ বিকালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে রাসেল মদিনায় যাবেন। সেখান থেকে সড়ক পথে দাম্মাম যাবেন। অন্যথায় তার ছুটির মেয়াদ শেষ হবে যাবে। এখন ছেলে যেন নিরাপদে দাম্মামে পৌঁছাতে পারে সেটি দোয়া করি।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত