শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:৫১ এএম, ২০২৬-০৩-০২
‘সান্ধ্য আইন মানি না’, ‘জয় বাংলা’, ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’ ইত্যাদি স্লোগানে একাত্তরের ২ মার্চ তেতে ওঠে ঢাকা। হঠাৎ কারফিউর ঘোষণা এলে ছাত্র-জনতা ও শ্রমিকরা এর বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ জানান। এর আগে এদিন ঢাকায় পাকিস্তানি পতাকা নামিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র আঁকা পতাকা ওড়ানো হয়।
সেদিন অন্যান্য ছাত্রনেতার সঙ্গে নিয়ে পতাকা উত্তোলন করেছিলেন তৎকালীন ডাকসুর ভিপি আ স ম আব্দুর রব। এই নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। ঘটনাপ্রবাহ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই দিন সমাবেশ ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কলা ভবনের সামনে বটতলায়, যদিও বটতলায় পতাকা ওড়ালে সবাই দেখবে না। এ কারণে কলা ভবনের দক্ষিণ-পশ্চিমের গাড়িবারান্দার ছাদ থেকে পতাকা উত্তোলন করেছিলেন তারা। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর তৎকালীন জিএস আব্দুল কুদ্দুস মাখন, ছাত্রলীগ সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ।
কলা ভবনের দোতলায় উঠে সেখান থেকে রেলিং টপকে তারা গাড়িবারান্দার ছাদে অবস্থান নিয়েছিলেন। এর মধ্যে বেলা ১১টার দিকে ছাত্রলীগের তখনকার ঢাকা নগর শাখার সভাপতি শেখ জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের ২০-২৫ জনের একটি দল পতাকাটি বহন করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দিতে জহুরুল হক হল থেকে বটতলার দিকে এগোতে থাকেন। পতাকাসহ ছাত্ররা কলা ভবনের সামনে এসে দাঁড়ালে সেখান থেকেই পতাকাটি হাতে নিয়ে অন্যান্য ছাত্রনেতার সঙ্গে নিয়ে পতাকা ওড়ান আ স ম আব্দুর রব।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ওয়েবসাইটে এই দিনের ঘটনাপ্রবাহ তুল ধরে উল্লেখ করা হয়, এদিন ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ছাত্রসমাবেশে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করা হয়। পতাকা উত্তোলন করেন ছাত্রনেতা আ স ম আব্দুর রব। সঙ্গে ছিলেন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা তোফায়েল আহমেদ, আব্দুল কুদ্দুস মাখন এবং নূরে আলম সিদ্দিকী। বিশাল এই সভায় স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকার এবং শেষ পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প ঘোষণা করা হয়। সভার শুরুতে সমবেত ছাত্রসমাজ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ও নির্দেশ অনুযায়ী স্বাধীনতার সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার শপথ গ্রহণ করে। সভায় ছাত্রলীগ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ এবং ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস মাখনও বক্তৃতা করেন। সভা শেষে এক বিরাট শোভাযাত্রা স্বাধীনতার স্লোগান দিতে দিতে বায়তুল মোকাররম গমন করে।’
এতে বলা হয়, ‘দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সচিবালয়ে পাকিস্তানি পতাকা নামিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র আঁকা পতাকা ওড়ানো হয়।
রাতে হঠাৎ বেতার মারফত ঢাকা শহরে কারফিউ জারির ঘোষণা করা হয়। কারফিউ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ছাত্রাবাস ও শ্রমিক এলাকা থেকে ছাত্র-জনতা ও শ্রমিকরা কারফিউর বিরুদ্ধে প্রবল স্লোগান তুলে কারফিউ ভঙ্গ করে মিছিল বের করেন। তাদের স্লোগান ছিল–‘সান্ধ্য আইন মানি না’, ‘জয় বাংলা’, ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’ ইত্যাদি। সারা শহরে কারফিউ ভঙ্গ করে ব্যারিকেড রচনা করা হয়। ডিআইটি অ্যাভিনিউর মোড়, মর্নিং-নিউজ পত্রিকা অফিসের সামনে রাত সাড়ে ৯টায় সামরিক বাহিনী জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করে। জনতা কারফিউ ভঙ্গ করে গভর্নর হাউসের দিকে এগিয়ে গেলে সেখানেও গুলি চালানো হয়। এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে কারফিউ ভঙ্গকারীদের ওপর বেপরোয়া গুলি চলে।’
প্যা/ভ/ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত